আওয়ামী লীগ সরকার সুবর্ণ জয়ন্তীকে তাদের দলীয় উৎসবে পরিণত করেছে পীর সাহেব চরমোনাই

0
48

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনে সর্বদলীয় জাতীয় কমিটি গঠন করে এই উৎসবকে সার্বজনীন করার দাবি জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই।
পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীকে তাদের দলীয় উৎসবে পরিণত করেছে। সরকার দমন-পীড়ন, হামলা-মামলা দিয়ে জনতার মাঝে বিভেদ তৈরি করে রেখেছে। একটি জাতীয় আনন্দঘন মুহুর্তকে এভাবে দলীয়করণ করার নিন্দা জানাচ্ছি। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর আনন্দমুখর মুহুর্তে সরকার দেশের রাজধানীতে সকল প্রকার সম্মিলিত ও প্রকাশ্য কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে কেবল রাষ্ট্রীয় এবং সরকার দলীয় অনুষ্ঠানে পরিণত করেছে। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর মুহুর্তে এমন নিষেধাজ্ঞা স্বাধীনতার মৌলিক চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক। মানুষের রক্তে কেনা স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপনে সরকারের এমন বিধি-নিষেধ অত্যন্ত নিন্দনীয়। অবিলম্বে সকল বিধি-নিষেধ তুলে নিতে হবে।

আজ মঙ্গলবার বেলা ১২টায় পুরানা পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিকি ও সমকালীন জনগুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, দলের নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ ফয়জুল করীম শায়খে চরমোনাই, মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য খন্দকার গোলাম মাওলা, অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, আলহাজ্ব আমিনুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, সহকারি মহাসচিব মাওলানা আব্দুল কাদের, মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, কেএম আতিকুর রহমান, মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাকী, মাওলানা শোয়াইব, মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, মাওলানা নেছার উদ্দিন, আলহাজ্ব আব্দুর রহমান, মুফতী কেফায়েতুল্লাহ কাশফী, এডভোকটে শওকত আলী হাওরাদার প্রমূখ।

সংবাদ সম্মেলনে ৮দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ১. ২৬ মার্চ ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি জেলা/মহানগর, উপজেলা ও ইউনিয়নে পতাকা র‌্যালী। ২. মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান ৩. দেশের প্রতিটি জেলায় মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি নিয়ে আলোচনা সভা, সেমিনার আয়োজন ৪. মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি শীর্ষক শ্বেতপত্র প্রকাশ ৫. আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর ইশতেহার প্রকাশ ৬. মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিশেষ দোয়া মাহফিল ৭. ভোটাধিকারসহ জনগণের অন্যান্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় জনসচেতনতা তৈরী ৮. বৈষম্যহীন, সুখী-সমৃদ্ধ ও কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় জনমত গড়ে তোলা।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, মেহমানকে আপ্যায়ন করা ইসলামের রীতি। এমনকি সে যদি আপন পিতার হত্যাকারীও হয় তবুও। এটা ইসলামের সৌন্দর্য্য। সে হিসেবে বাংলাদেশে আমন্ত্রিত সকল বিদেশি মেহমানদের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ স্বাগত জানায়। কিন্তু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিষয়টি আলাদা। তার সহিংস অতীত এবং ক্ষমতাগ্রহণের পরে ভারত জুড়ে তিনি যে ধর্মীয় সহিংসতা উস্কে দিয়েছেন, তাতে বাংলাদেশে তাকে স্বাগত জানানোর মতো কোনো পরিবেশ নেই। নরেন্দ্র মোদি ভারতে বৈষম্য, সংখ্যালঘুদের ওপরে অত্যাচার-নিপীড়ন, ধর্মীয় তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মানুষকে পিটিয়ে মারা, কাশ্মীরের মানুষের স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া এবং সিএ-এর মতো বর্ণবাদী আইন করে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ভারতে বসবাস করা মানুষের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়ার মতো কাজ করছে।

একই সাথে তিনি প্রতিবেশিদের সাথে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসী আচরণ করাসহ সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায় বিচার পরিপন্থী কার্যক্রমের প্রধান কুশিলবদের একজন। বাংলাদেশের সীমান্তে প্রতিনিয়ত মানুষ হত্যা, বাংলার মানুষের প্রাপ্য পানি নিয়ে অবৈধ কারসাজী, কুটকৌশলের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিক‚লে বাণিজ্য ঘাটতি জিইয়ে রাখা, রোহিঙ্গা ইস্যুতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং আগ্রাসী বিনিয়োগ করে বাংলাদেশকে দুর্বল পররাষ্ট্রনীতি গ্রহনে বাধ্য করা; ইত্যাদি কারণে নরেন্দ্র মোদিকে বাংলার মানুষ স্বাগত জানাতে পারে না। নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে আমন্ত্রিত হওয়ার নৈতিক যোগ্যতা রাখেন না। বরং নরেন্দ্র মোদির মতো উগ্র সাম্প্রদায়িক ব্যক্তি বাংলাদেশের স্বাধীনতার এই মাইলফলকে উপস্থিত থাকা স্বাধীনতার মূল চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক।
তিনি বলেন, এদেশে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ একত্রে বসবাস করেছে। তাদের মাঝে সামাজিক ঝগড়া, ফাসাদ হলেও ধর্মকে কেন্দ্র করে গণ সাম্প্রদায়িকতা হয়নি। এমনকি এখানে গণধর্মান্তর ঘটেছে কোনো ধরণের সহিংসতা ছাড়া। হিন্দু প্রধান বাংলা মুসলিম প্রধান হয়েছে শান্তিপূর্ণভাবেই। সেই বাংলায় ইংরেজ আগমণের পর থেকে শুরু হয়ে সম্প্রতি সুনামগঞ্জের শাল্লা অবধি নানা সময়ে
কথিত সাম্প্রদায়িক হানাহানির কথা শোনা যায় এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ হিসেবে মুসলমান ও ইসলামপন্থীদের ওপরে দায় চাপানো হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here