আমরা সমালোচক হলে আপনারা তৈলমর্দন কারী চামচা নিশ্চয়

0
346

শহীদুল্লাহ মেম্বার

আমার কিছু কিছু সহযোদ্ধা অনুজ,অগ্রজেরা মনে করছেন আমি বা আমাদের মত যারা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফেসবুক ওয়ালে স্ট্যাটাস দিচ্ছি তারা সরকারের সমালোচনা করছি। আপনারা যদি মনে করেন আমি বা আমরা সরকারের সমালোচনা করছি তাহলে আমি মনে করি আপনারা সরকারের নির্দেশনা বাদ দিয়ে কোন ব্যক্তি বিশেষের পক্ষে সাফাই গাইতেছেন। অন্য ভাষায় বলা যায় চামচামি বা তৈলমর্দন করতেছেন।

আপনারা যদি মনে করেন সরকারের নির্দেশনা না মানা বা রক্ষা না করায় আমরা তার সমালোচনা করলে সরকারের সমালোচনা করার সামিল মনে করেন । তাহলে আমার আর বলার অপেক্ষা রাখেনা আপনাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কি। আমার ক্লাস টেনে পড়া ২য় ছেলেটিও বুঝে নিতে পারবে এর মানে কি।

সরকার প্রধান বললেন, সামাজিক দুরত্ব ও হোম কোয়ারেন্টাইন মেনে চলতে। যারা খেটে খাওয়া দিন মজুর বা শ্রমজীবী মানুষ আছে তাদের ঘরে ঘরে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছিয়ে দিতে।

আপনারা অসহায় গরিব মানুষদের খাদ্য সামগ্রী ঘরে ঘরে না দিয়ে দিচ্ছেন রাস্তায় রাস্তায়। যার কারণে সাধারণ গরীব মানুষ গুলো আর ঘরে থাকতে চাইনি। খাদ্যের জন্য রাস্তায় নেমে আসলেন। তারপর কি হল সামাজিক দুরত্ব ও হোম কোয়ারেন্টাইন দুটিই ভঙ্গ হল।

আপনার জনপ্রতিনিধি এবং নেতারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে ভিডিও কনফারেন্সে বললেন উনারা জেলা বাসিকে সচেতন করেছেন। হাত ধুঁয়া, সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা, হোম কোয়ারেন্টাইন মেনে চলা, ঘরে থাকা, হাঁচি কাশি কি ভাবে করবে ইত্যাদী মাইকিং করে করে শিখিয়ে জেলা বাসীদের সচেতন করেছেন। আবার এক জনপ্রতিনিধি নেতা বলেই দিয়েছেন তাঁর পৌরসভার প্রতিটি ঘরে ঘরে ভ্যাকসিন মারতেছেন। কিসের ভ্যাকসিন? এখনোতো করোনার কোন ভ্যাকসিন বা টিকা আবিষ্কার হয়নি। তাহলে তিনি কিসের ভ্যাকসিন মারতেছেন? এই নিয়ে অনেকেই হেসেছেন আমি কিন্তু হাসতে পারিনি। কারণ আমার হাসি পেটের ভিতর জায়গা না পেয়ে হাসতে পারেনি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নেতাদের কথা শুনে কিন্তু হেসেছেন। কেন হেসেছেন তার রহস্য ভেদ করা কঠিন। তারপরও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বার বার বলেছেন কষ্ট হলেও মানুষ যেন ঘরে থাকেন। তার মানে হল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা বা বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশনা মানলে এই বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধ করা যাবে। এই কথা গুলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বার বার বলেছেন। কেন বলেছেন করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধ করতে।

আর আপনার কতিপয় জনপ্রতিনিধিরা খাদ্য সহায়তা প্রদানের নামে সেই নির্দেশনা বার বার অগ্রাহ্য করলেন। কক্সবাজার জেলা পুলিশ, জেলা যুবলীগ, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান কায়সারুল হক জুয়েল, ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান টিপু সুলতান ও জেলা আওয়ামিলীগ নেতা কাজী শামীম, জেলা যুবলীগ নেতা ইসমাইল সিআইপি সহ অনেকেই খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছেন এবং বর্তমানেও দিয়ে যাচ্ছেন । তাদের খাদ্য সহায়তা প্রদান করা নিয়ে কেউ তো কোন সমালোচনা করেনি? আপনার নেতাকে নিয়ে কেন এত সমালোচনার ঝড় উঠছে? আপনারা এর কারণ খুঁজে দেখবেননা। কেননা আপনাদের কাছে দলীয় প্রধান বা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বড় কথা নয়। আপনাদের কাছে বড় হল নেতার মাঝে ভুল দেখেও এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করা। তার মানে নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য নেতাকে তৈলমর্দন করা।

আপনারা খাদ্য সহায়তা প্রদান করতে গিয়ে সামাজিক দুরত্ব রক্ষা না করে হোম কোয়ারেন্টাইন ভেঙেছেন এর ফলে, ঘনবসতির বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ যদি মহামারী আকার ধারণ করে তখন সরকারের বা দলের সুনাম বৃদ্ধি পাবে? নাকি বাংলাদেশে মৃত্যুর সংখ্যা কম হওয়ায় আপনারা অখুশি হয়েছেন? আমার এই প্রশ্ন গুলোর উত্তর যারা আমার বা আমাদের মত ক্ষুদ্র লেখকদের লেখাকে সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনার অংশ হিসাবে দেখতেছেন তাদের দিতে হবে। ধন্যবাদ সকল বন্ধুদের।

আসুন সকলেই মহান আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করি, মহান আল্লাহ যেন আমাদের বাংলাদেশ কে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের মহামারী থেকে হেফাজত করেন। আমিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here