উখিয়া রেডজোন এলাকায় লক ডাউন কার্যক্রম ও কিছু মনের অভিব্যক্তি

0
88

এম আর আয়াজ রবি

উখিয়া উপজেলার ৪ নং রাজা পালং ইউনিয়নের ২,৫,৬ ও ৯ নং ওয়ার্ড কে ‘রেড জোন’ ঘোষনা করে উপজেলা প্রশাসন সাম্প্রতিক কালে করোনা অতিমারীর কবল থেকে রোহিংগা অধ্যুষিত উখিয়াবাসীকে প্রানঘাতী ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কোভিড-১৯ থেকে রক্ষা করার জন্য উপজেলা প্রশাসন, থানা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিবৃন্দ আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। উনাদের সাথে আরও অনেকেই যেমন সচেতন সমাজ, সুশীল সমাজ, বিভিন্ন পেশাজীবি সংগঠনসমুহ, ব্যবসায়ী, ছাত্র-জনতা, কৃষক মেহেনতি মানুষ উক্ত লক ডাউন সফল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রসংগক্রমে উল্লেখ্য যে, উখিয়া উপজেলার মাননীয় ইউএনও জনাব নিজাম উদ্দিন আহমেদ, উখিয়া থানার মাননীয় ওসি জনাব আহমেদ সঞ্জুর মোর্শেদ, ৪ নং রাজাপালং ইউনিয়নের মান্যবর চেয়ারম্যান জনাব জাহাংগীর কবির চৌধুরী ও সংশ্লিষ্ট জোনের ইউপি মেম্বারবৃন্দ অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন যাতে ঘোষিত লক ডাউন সফল করা যায় এবং সাধারন মানুষ স্বতস্ফূর্তভাবে রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন।

উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক রেডজোন এলাকায় লকডাউনের নির্দেশনায় ও মাইকিং করে বলা হয়েছে, উখিয়া তে (কোভিট-১৯) সংক্রমণ মারাত্বক ভাবে বৃদ্ধির পাওয়ায় উখিয়া রাজাপালং ইউনিয়নর ২, ৫, ৬, ও ৯নং ওয়ার্ড কে ‘রেডজোন’ ঘোষণা করে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।

তাই লকডাউন চলাকালে সকল ধরনের গণজমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সকলে অবশ্যই নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করবেন। কোন অবস্থাতেই ঘরের বাহিরে যাওয়া যাবে না। সকল প্রকার যানবাহন টমটম, সিএনজি, রিক্সা, সীলাইন/ কক্সলাইন সকল ধরনের ব্যক্তিগত যানবাহন ও গণপরিবহন বন্ধ থাকবে।

সকল ধরনের বেসরকারি অফিস ও এনজিও সংস্থার অফিস আগামী ৬ জুন ২০২১ খ্রিষ্টাব্দ তারিখ রাত ১২ টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। সকল প্রকার হোটেল, রেস্তোরাঁ, চায়ের দোকান, কুলিং কর্ণার, পানের দোকান, শপিং মল, বেকারী, কাপড়ের দোকান, মার্কেটসহ সকল ধরনের দোকান-পাট বন্ধ থাকবে। কাঁচাবাজার ও মুদি দোকান স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকার সকাল ৬ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। বিলেক ৪ টা থেকে ঔষধের দোকান ব্যতীত সকল প্রকার দোকান-পাট আবশ্যিক ভাবে বন্ধ থাকবে।

কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, যে লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও মিশন নিয়ে ‘রেডজোন’ ও ‘লক ডাউন’ ঘোষনা করা হয়েছে তা সঠিকভাবে সফল হচ্ছে না। এটা নিয়ে অনেককেই ঊর্ষা প্রকাশ করতে দেখা গেছে। উপজেলা প্রশাসন, থানা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাবার পরেও স্থানীয় মানুষের অচেতনতা, খামখেয়ালীপনা, কর্তব্য কাজে অবহেলা, আয় রোজগারের তাগিদ, কোভিড-১৯ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারনা প্রভৃতি কারনে উক্ত লক ডাউন সফল হচ্ছে না।

যতদিন, খেটেখাওয়া দৈনিক শ্রমিকগুলো-যারা দিনে এনে দিনে খায় এরুপ মানুষগুলোর জন্য বিকল্প ত্রান, প্রনোদনা ও অন্যান্য সামগ্রীর যোগান নিশ্চিত করা হবে না, মানুষকে করোনার নেতিবাচক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সচেতন করতে পারবেন না, ততদিন লক ডাউন বলেন, রেডজোন লক ডাউন বলেন কোন কার্যক্রম আলোর মুখ দেখবে না ও সফলভাবে সম্পন্ন করা দুরুহ হয়ে উঠবে।

প্রশাসনের উচিত ছিল লক ডাউন সফল করার জন্য সেসব দৈনিকখেটে খাওয়া ভুক্তভোগীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহন করার। মানুষ পেঠের দায়ে লক ডাউন মানতে বাধ্য হচ্ছে না। যারা দিনে এনে দিনে খায়, সেসকল মানুষকে আপনি অভুক্ত অবস্থায় ঘরে কিভাবে আটকে রাখবেন? অনেক পরিবার একজনের আয়ে পরিবারের অন্য আটজন সদস্য খেয়ে বাঁচতে পারেন, তাদেরকে আপনি কিভাবে আটকাবেন? তারা তো কোন ভাবেই রাষ্ট্রীয় নীতি বলেন, আইন কানুন বলেন কোন কিছুর তোয়াক্কা করবেন না। কারন প্রয়োজন কখনও আইন মানে না! তাই সেসব সাধারন মানুষের বিকল্প ব্যবস্থা না করে জোর করে কোনভাবেই লক ডাউন সফল করতে পারবেন না। রেডজোন ঘোষনার পুর্বেই তা প্রশাসনের বিকল্প চিন্তায় থাকা উচিত ছিল।

আর রোহিংগা অধ্যুষিত এলাকায় রোহিঙ্গাদের সেবা বন্ধ করে, লজিস্টিক সাপোর্ট বন্ধ করে কড়াভাবে লক ডাউন পালন করার কোন সুযোগ নেই। আপনি শত চেষ্টায়ও এনজিও অফিস, এনজিওদের গাড়ি বন্ধ করে, রোহিংগাদের লজিস্টিক সাপোর্ট বন্ধ করতে পারবেন না। তাই সর্ব সাধারনকে সচেতন করে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করে, অত্র এলাকায় কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ এর হারের গতির এদিক ওদিক হয়ত করতে পারবেন, কিন্তু আক্রান্তের হার শুন্যের কৌঠায় নামিয়ে দিতে পারবেন না।

উখিয়া থানার চৌকষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, জনাব আহমেদ সঞ্জুর আহমেদ এর সাথে রেডজোন, লক ডাউন পরিস্থিতি নিয়ে আলাপ প্রসংগে তিনি বলেন -” ভাই আমরা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের অংশ হিসেবে এলাকার জনগন, সাধারন মানুষকে সচেতনতামুলক ভাবে রেডজোন, লক ডাউন সম্পর্কে বুঝিয়ে লক ডাউন পালন করার, প্রশাসন কর্তৃক যাবতীয় বিধি নিষেধ, সতর্কতা নিয়ে মিশন পরিচালনা করি। কিন্তু আমরা যতক্ষন মাঠে থাকি ততক্ষন একটু আমাদের সমীহ করেন, পরক্ষনেই যে লাউ সেই কদু। গাড়ি ঘোড়া, দোকান পাট বন্ধ করার জন্য কত ফোর্স এপ্লাই করা যায়, বলুন! তারা নিজেরাই যদি সচেতন না হোন, মৃত্যু ভীতি সৃষ্টি না হয়, করোনার নেতিবাচক দিক সম্পর্কে না বুঝেন, সচেতন না হন, জোর করে কতক্ষণ সম্ভব। আমরা তো থানার দৈনন্দিন রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করার পরে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে উক্ত লক ডাউনের দায়িত্ব পালন করি। আমাদের ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ইচ্ছে করলেই আমরা ফোর্স করে অনেক কিছু করে দিতে পারিনা”। ধন্যবাদ সবাইকে।

লেখকঃ প্রেসিডেন্ট-বিএমএসএফ উখিয়া উপজেলা ও ভাইস-প্রেসিডেন্ট উপজেলা প্রেস ক্লাব উখিয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here