এ লজ্জা কার?

0
94

এম.মোস্তফা কামাল আজিজি

প্রিয় পুলিশ ভাই,

আপনারাই তো জাতির এই করুন মুহূর্তে নির্ভয় মানুষকে সরকারি নির্দেশ লকডাউন মেনে চলার জন্য দেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত নির্দ্বিধায় ডিউটি করে যাচ্ছেন। এ জন্য প্রথমেই আপনাদেরকে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ।

কিন্তু আপনাদের এটাও ভেবে রাখা দরকার যারা আজ করোনার এই করুণ মুহূর্তে মৃত্যুকে ভয় না করে এসব চায়ের প্লাস নিয়ে বের হয়, তাদের পরিবারের একটু খোঁজ নিয়ে দেখুন। তার জীবিকার উপর কয়জন মানুষ থাকিয়ে আছে।

আপনার দেয়া এমন অনাকাঙ্ক্ষিত থাপ্পড় খেয়ে যখন সে তার ফ্যামিলি কিংবা তার ছেলে মেয়েদের সামনে গিয়ে খালি হাতে দাঁড়াবে, তখন হয়তো চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়বে কিন্তু বলার মত ভাষা তার থাকবে না।

মনে রাখবেন এরা কিন্তু পেটের দায়ে বের হচ্ছে ফটোসেশন কিংবা মডেলিং করতে নয়, করোনায় আক্রান্ত হয়ে মরনের ভয় তাদের অন্তরেও আছে কিন্তু ক্ষিধার কাছে হার মেনেছে।

হোম কোয়ারেন্টাইন না মেনে বের হলে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাবে কিনা সেটা সন্দেহ আছে, কিন্তু ক্ষুধার তাড়নায় তার সামনে তার স্ত্রী-সন্তান মা-বাবা না খেয়ে দুঃখে দুঃখে মরবে সেটা সহ্য হচ্ছে না, তাইতো সে করোনার মৃত্যুকে ভয় না করে চায়ের প্লাস হাতে নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে জীবিকা নির্বাহের জন্য।

আপনি তার স্থানে গিয়ে ( অভাবগ্রস্ত হলে) চোখ বন্ধ করে নিজের বিবেক কে প্রশ্ন করে দেখুন আপনার আদরের সেই ছোট্ট খোকা যখন আপনাকে এসে বলবে আব্বু আমি মাছ কিংবা মাংস দিয়ে ভাত খাব তখন আপনার কি অবস্থা হবে।

জানি সে সরকারি নির্দেশনা না মেনে বাড়ী থেকে বের হওয়াটা তার অপরাধ ছিল, কিন্তু আপনার দায়িত্ব কি ছিল? আপনি যদি তাকে না মেরে তার অভাবটা পূরণ করতে নিকটস্থ ইউএনও কিংবা সরকারি অন্যকোন সহায়তায় তার অভাবটা দূর করতে সহযোগিতা করতেন হয়তো সে আর এভাবে বের হতো না।

প্রিয় পুলিশ ভাই লিখতে চাইলে হয়তো আরো অনেক লেখা যাবে তবে সব কথার শেষ কথা হল আপনাদের কাছ থেকে জাতি এমন আচরণ আশা করেন না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here