কক্সবাজারে ৪০% ঘর ভাড়া কমাতে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন

0
64

এড.সাইফুদ্দিন খালেদ

লকডাউনে জোর পূর্বক ভাড়া আদায়ে বিল্ডিং মালিকরা ভাড়াটিয়াদের সাথে নানা অসৌজন্যমূলক আচরণের খবর সারা দেশের মত কক্সবাজারে ও লক্ষনীয়ভাবে বেড়ে গেছে।

গত ২৬ মার্চ থেকে দেশে লকডাউন শুরু হলে অফিস, আদালত, ব্যবসা- বানিজ্য বন্ধ হয়ে যায়। মধ্যখানে সাপ্তাহ দশ দিন লকডাউন শিথিল হলেও পুনরায় লকডাউন শুরু হলে মানুষের মাঝে চরম কষ্ট দেখা যাচ্ছে , অধিকাংশেরই আয় ইনকাম না থাকায় বেকার হয়ে যায় । নিম্ন শ্রেনীর মানুষ গুলো বিত্তবানদের কাছ থেকে সাহায্য সহযোগিতা নিতে পারলে ও মধ্যবিত্ত, বেসরকারি চাকুরীজীবী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, পেশাজীবি অনেকে চরম বিপাকের পড়ে। এমতাবস্থায় অনেকের ইচ্ছা থাকার পরও ঘর মালিকের নোংরা আচরনেও ভাড়া পরিশোধের সামর্থ নাই।

অনেকেই ব্যক্তিত্ব রক্ষা ও সংসারের বিবিধ খরচ মিটাতে হিমসিম খেয়ে হচ্ছে আবার ঘর মালিকের বকাবকিতে ও অতিষ্ঠ অনেকে । করোনার এই মহামারীতে মানুষের মধ্য কিছু না কিছু মানবিকতা দেখা গেলেও কতিপয় ঘর মালিক ভাড়াটিয়াদের প্রতি অমানবিক আচরন সত্যি দুঃখ জনক। করোনায় দেশের শীর্ষ ধনী, হাজার কোটি টাকার মালিক ও টাকার দিয়ে জীবন ফিরে পাননি, অথচ এর কাছ থেকেও তারা শিক্ষা নিতে পারেনি ।

রোহিঙ্গা আসায় জেলায় শহরে হু হু করে ভাড়া বৃদ্ধি হয়ে যায়। ৫০০০/ ৬০০০ টাকার ভাড়া বাসা এখন প্রায় ১০ – ১৫ হাজার। বাসার সুবিধা অনুযায়ী কম বেশী এবং ৩০/৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত আছে। তবে রোহিঙ্গা আগমনে দ্বিগুণ ভাড়া বৃদ্ধি বিষটি নিশ্চিত । এত টাকা নিলেও তারা ভাড়াটিয়াদের রশিদ ও প্রদান করেনা। কেননা তারা সরকারী দপ্তরে ভাড়া দেখায় তিনভাগের এক ভাগ। ইনকাম টেক্স প্রদান করে ঐ এক ভাগের উপর।

করোনার এই মহামারীতে অনেক মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন ঘর মালিক ভাড়াটিয়াদের কষ্ট উপলব্ধি করে ভাড়া মওকুফ করে দিয়েছে এমন খবরও গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে । অনেকে ৫০% মওকুফ করে দিয়ে মানবিকতা দেখালেও আবার কতিপয় ঘর মালিককের বিরোদ্বে ভাড়া আদায়ে ভাড়াটিয়াদের সাথে অসৌজন্যমূলক ও অমানবিক আচরনের অভিযোগ উঠেছে । তাহারা লকডাউন তকডাউন বুঝিনা ভাড়া দিতে হবে, না দিতে পারলে চলে যাওয়ার হুমকিও দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী অনেকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন – করোনার এই মহামারীতে বেকার অবস্থায় ঘর মালিক পক্ষ একটু মানবিক আচরণ করলে ভাল হয় এবং ৫০% ভাড়া মওকুফ করতে পারে এবং অনেক ভাড়াটিয়া ৪০% ভাড়া কমাতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ।

ভুক্তভোগীরা আরো বলেন- করোনার এই মহামারীতে কে বাঁচে কে মরে কোন গ্যারান্টি নাই। এমন সময়ে ও আমরা মানবিক আচরণ দেখাতে ব্যর্থ হই তাহলে রোজ কেয়ামতের দিনে আল্লাহকে কি জবাব দিব।

করোনার এই সময়ে জনগনের উপর অযথা আর্থিক চাপ কমাতে এনজিও গুলোর ঋণ লকডাউন পর্যন্ত আদায় না করিতে জেলা প্রশাসনের কঠোর নির্দেশনা থাকলেও ঘর মালিকদের ব্যাপারে কোন নির্দেশনা এখনো দেয়া হয়নি।

কক্সবাজারে ভাড়াটিয়া ও ঘর মালিকের মধ্যে সুসম্পর্ক বৃদ্ধিতে, অন্তত ৪০% ঘর ভাড়া কমানো সহ যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিতে মাননীয় জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here