“কমল” ভাইয়ের পাশে থাকা অনভিজ্ঞ অবুঝ নেতারা কি তাঁর ভাল চাচ্ছেন? না কি তাঁকে অতল গহ্বরে তলিয়ে যেতে সাহায্য করতেছেন?

0
217

শহীদুল্লাহ মেম্বার

জাতীয় সংসদের কক্সবাজার ৩ আসনের ( কক্সবাজার – রামু ) মাননীয় সাংসদ আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল ভাই, জনসমাগম করে করোনা সহায়তার খাদ্য সামগ্রী বিলি করেন। যদিও তা ছিল জনহিতকর কর্মকাণ্ড । কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের মারাত্মক বিষয়টি হল জনসমাগম। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধ কল্পে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে চারটি স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ক নির্দেশনা প্রদান করেছেন। তার মধ্যে ১ নং নির্দেশনা ছিল কোন প্রকার জন সমাবেশ না করা। যে কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মুজিব বর্ষের সকল ধরনের অনুষ্ঠান বাতিল করেছেন।

কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সেই নির্দেশনা না মেনে অসহায় গরিব দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান করতে গিয়ে অব্যবস্থাপনার কারণে মারাত্মক কিছু ভুল ত্রুটি করেছেন। সেই বিষয়ে আমি আমার ফেসবুক ওয়ালে দুটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম। তারপর থেকেই আমার অনেক শুভাকাঙ্খী রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের মধ্যে আমার অগ্রজ অনুজেরা আমার স্ট্যাটাসের বিরুদ্ধে বিতর্কের ঝড় তুলেন । বিতর্কের ধরণ দেখে যে কেউ বুঝতে পারবেন বিতর্কের মুল কারণ হল আমার পোস্ট করা স্ট্যাটাস নিয়ে।

কেউ বলছেন আমার এই রকম স্ট্যাটাস পোস্ট করার প্রয়োজন ছিলনা। তার আগে এমপি কমল ভাইয়ের সাথে কথা বললেই হত। যারা এরকম কমেন্ট করেছেন আমি সেই সহযোদ্ধাদের করা কমেন্টের প্রতি উত্তর করেছি। তারপরও কিছু কিছু সহযোদ্ধারা আবোল তাবোল স্ট্যাটাস দিয়ে প্রমাণ করতে চাচ্ছেন আমার স্ট্যাটাস ভুল ছিল। আর যারা এই সমস্ত স্ট্যাটাস গুলো দিচ্ছেন তাদেরকে কমল ভাইয়ের সাথেও দেখা যায়।

এখন আমার কথা হল সে পাশে থাকা অনভিজ্ঞ অবুঝ নেতারা কি কমল ভাইয়ের ভাল চাচ্ছেন? না কি কমল ভাইয়কে অতল গহ্বরে তলিয়ে যেতে সাহায্য করতেছেপনারা যদি মনে করেন কমল ভাইয়ের ভাল করতেছেন তাহলে বলব আপনারা ভুল করছেন। আপনারা যারা কমল ভাইয়ের পাশে থাকেন তাদের মধ্যে অনেককেই দেখেছি, কমল ভাই ভুল করলেও তাঁর করা ভুল গুলো জানিয়ে দিয়ে ভুল শোধরাবার সুযোগ করে দেওয়াতো দুরের কথা। উল্টো বলেন খুব ভাল করেছেন এই সমস্ত কথা বলে পাম্প পট্টি দিতেই থাকেন। এতে লাভ কার হল? কি কমল ভাইয়ের লাভ হল না দলের লাভ হল? শুধুমাত্র আপনাদেরই (চামচাদের) স্বার্থ হাসিল হল।

আপনাদের মত কিছু আনাড়ি নেতাদের কাছে প্রশ্ন রাখছি, কমল ভাইয়ের কি ভুল হয়না? আপনাদের তৈলমর্দন করা দেখে মনে হয়, সকলের ভুল আছে আপনাদের কমল ভাইয়ের ভুল নাই। এরকম যারা আচরণ করেন তাদের উদ্দেশ্যে বলছি শুনুন। বঙ্গবন্ধু তাঁর অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে লিখেছেন, ” আমার যদি কোনো ভুল হয় বা অন্যায় করে ফেলি,তা স্বীকার করতে আমার কোনোদিন কষ্ট হয় নাই। ভুল হলে সংশোধন করে নেব, ভুল তো মানুষের হয়েই থাকে।”( বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পৃষ্ঠাঃ৮০)। যেখানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু যে মাঝে মাঝে ভুল গুলো করতেন এবং সেই ভুল স্বীকার করে তিনি সংশোধন করে নিতেন। তিনি তাঁর অসমাপ্ত আত্মজীবনী গ্রন্থে তাই উল্লেখ করে গেছেন।

আর আমার স্ট্যাটাস নিয়ে মানুষদের বলে বেড়ান, ” আমি নাকি কমল ভাইয়ের বিরোধী গ্রুপ তাই কমল ভাইয়ের গীবত করতেছি “। আবার কেউ কেউ আমাকে ভয় দেখিয়ে হুমকির সুরে বলেন, ভবিষ্যতে আমার বিপদ আছে। ভাই বিপদের হুমকি আমাকে দিয়ে লাভ হবেনা। সর্বোচ্চ বিপদ বলতে কোন কন্ট্রাক্ট কিলার দিয়ে মেরে ফেলতে পারবেন অথবা জেল জুলুম চালাতে পারবেন এর বাইরেতো কিছুই করতে পারবেন না। আমি সেই মৃত্যু এবং জেল জুলুমের জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকি।

কমল ভাইয়ের পাশে পাশে থেকে অনেক ক্ষতি করেছেন এখনো করছেন। যেমন সাবেক এপিএস নামধারী কমল ভাইয়ের এলাকার বাসিন্দা। সে কমল ভাইয়ের সরলতার সুযোগ নিয়ে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে রামু এলাকার কত বড় বড় অবৈধ কারবারিদের কাছ থেকে কমল ভাইয়ের নামে সুবিধা নিয়ে কমল ভাইয়ের অজান্তে সম্পদের পাহাড় গড়েছে। পরবর্তীতে কমল ভাইকে সেই এপিএস সম্পর্কে বললে কমল ভাই সেই এপিএসকে ছাটাই করে দিয়েছেন।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালনকারী নেতা কর্মীদের বলছি, আমি যদি কমল ভাইয়ের বিরোধী হতাম তাহলে কমল ভাইকে কক্সবাজার জেলা থেকে মন্ত্রী করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা বরাবর আবেদন জানিয়ে স্ট্যাটাস দিতামনা। তবে আপনাদের মত চামচামি করতে পারবো না। কমল ভাইকে এখনো ভালবাসী কিন্তু আমাদের আস্থা ও বিশ্বাসের শেষ ঠিকানা দেশরত্ন জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাইতে বেশী নয়। যে নেতা বা ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং তাঁরই আদরের হাসু আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ মেনে রাজনীতি করবেন আমি আজীবন সেই ব্যক্তি বা নেতাকে ভালবেসে যাবো। আর যারা আমাদের নেত্রীর সাথে খন্দকার মোশতাকের মত সামনে হলে জ্বি হুজুর পেছনে গেলে বিরোধিতা। এই ধরনের নব্য খন্দকার মোশতাকদের কোন অবস্থায় ছাড় দেবোনা তাতে যদি আমার মৃত্যুও হয় সেই মৃত্যুকে বরণ করে নেব ।

কোন সুবিধা ভোগী হতে আমি রাজনীতি করিনি করবোই না। আমি আমার রাজনৈতিক গুরু কক্সবাজার আওয়ামীলীগের কিংবদন্তি বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম মোজাম্মেল সাহেবের কাছ থেকে বঙ্গবন্ধুর আদরের হাসুকে এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ভালোবাসতে শিখেছি। আজীবন ভালোবেসে যাবো। ঠিক আমার রাজনীতির শিক্ষা গুরু যেভাবে ভালোবেসে গেছেন। ঠিক সেভাবেই ভালবেসে যাবো মৃত্যুর আগ পর্যন্ত। এই ভালোবাসার মাঝে কোন খাত নাই। নেই কোন লেনাদেনার হিসাব নিকাশ। যতবার আমার নেত্রী সাইমুম সরওয়ার কমল এমপিকে মনোনয়ন দিবেন। ততবার আমি তাঁরই পক্ষে অর্থাৎ নৌকার পক্ষ হয়ে অতীতের মত নিঃস্বার্থ ভাবে কাজ করে যাব।

আর সাইমুম সরওয়ার কমল ভাই যদি ভাল মনে করেন আমার ফোন যেন রিসিভ করবেন। আমার ব্যক্তিগত কোন বিষয় নিয়ে ফোন করিনা ভবিষ্যতেও করবনা। আমি ফোন করি আমার দলের স্বার্থে। আমার এমপি হওয়াতো দূরের কথা কাউন্সিলর হওয়ারও ইচ্ছা নাই । ফোন রিসিভ না করলেও আমার কোন অসুবিধা নাই। তবে সবিনয়ে আবেদন থাকবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নির্দেশ মানুন আমাদের আস্থা অর্জন করুন। তারপর আজীবন আপনাদেরর হয়ে থাকবো কাজ করে যাবো। সব সময় আপনাদের হয়ে জয়গান গাইবো। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ন শেখ হাসিনা। হে আল্লাহ আমাদের বুঝার তৌফিক দান করুন। করোনা থেকে আমাদের হেফাজত করুন। আমিন।

লেখক – শহীদুল্লাহ মেম্বার বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here