কাবেরীর প্রায়ত স্বামী আসিফকে নিয়ে তার আবেগঘন স্ট্যাটাস

0
95

বর্ষা ও আমাদের যুগল চলা যেন একসাথেই।
এক ঘোর বর্ষায় পুরো পৃথিবীর রক্ত চক্ষুকে অগ্রাহ্য করে আমি সংসারী হয়েছিলাম।
স্বৈরাচার ও জামায়াত বিরোধী আন্দোলনের অনন্য পথিকৃত,চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের বিপ্লবী ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক।চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক তূখোড় বক্তা ও লেখক,
স্বৈরাচারের উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভুল মামলায় তাঁর বেশীর ভাগ সময় গেছে জেলখানায়।মিছিলেই কথা দিয়েছিলাম সারথী হব,জয় করব কাল’
এক সাথে এক রথে।
প্রতিদিন করব নতুন আয়োজন নতুন ভোর।
প্রতিদিন করব আবাদ পুরোনো শষ্য ভূম।

আসিফ বলেছিল,
‘আমার স্বপ্নের বিপরীতে তোমার
কোন বিশ্বাসযোগ্য আবাসভূমি থাকতে পারেনা।
সমৃদ্ধির বহমান গতিময়তায় তুমি কখনোই পেতে
পারোনা কাংখিত সূখের মোহনা।
আমি স্বপ্নকে সন্চিত করেছি
বছরের পর বছর ধরে।
মানবিক অগ্রযাত্রার ঐতিহাসিক বিজয় হতে
তূষের আগুনে পোড়ে কস্টের নদী পেরিয়েছি বলেই
আমার স্বপ্নেরা পেয়েছে একান্ত ভালবাসার অধিকার।
আমার ভালবাসার নিগড়ে এসো মহিমান্বিত হবে।”

আমি পৃথিবীতে মানবতার পতাকা তোলার দূর্নিবার আগ্রহী এক তরুনের সহযোদ্ধা হয়েছিলাম।আমি চেয়েছিলাম বহুদূর হেঁটে যাওয়ার যে আগ্রাসী মণন’
সে তারুণ্যের বন্ধুর পথে ‘সাবলীল বন্ধু হতে।
যে বরষায় ঘরে উঠলাম তার।
দেখি গল্পে পড়া হুলিয়ায় পালানো এক বিপ্লবীর অগোছালো ঘর।সদ্য স্বামী হারা মা অসুস্হ।বিশাল মাঠখানায় প্রাকৃতিক নিয়মেই আম জাম পেয়ারার মহোতসব।
না পারি চা বানাতে।ফাঁকে ফা্কেই আসিফ
শিখিয়ে দিল সব।বিয়ের সপ্তম দিন পুলিশ ঘেরাও করে গভীর রাতে তাকে গ্রেফতার করল মিথ্যে রাজনৈতিক মামলায়।এক মাস, আমার জীবনের একযুগের শিক্ষা।খুন্তি, কাঠি থেকে
কোর্ট হাজত কোন কিছুই বাদ নেই।
চার পাশে ছাত্রদের মিছিল পোস্টার ফেস্টুন।আসিফ ভাইয়ের মুক্তি চাই।হরতাল পড়ল তিনদিন।
পাড়া প্রতিবেশ বলল মেয়েটার জীবন শেষ।
আমি কেবল জীবন শুরু করেছিলাম।
ত্যাগের যে আনন্দ,বিসর্জনের যে সুখ।আমি তাঁর সংসার থেকেই হাতেকলমে বুঝেছিলাম।সম্মান’ শিখেছিলাম তাঁর কাছে।নামাজ রোজা কখনো খেয়ানত করতে দেখিনি।
সে বুঝেছিল আমাকে সম্মানিত করতে তাকেই সম্মানিত হতে হবে।
খুব ভালবাসতাম,শ্রদ্ধা করতাম।শেষের দিকে বলতো শুধু, আমি কিনতু মানুষ,ফেরেশতা নই।এতো মনে ধরোনা, কস্ট পাবে।পৃথিবীর দিকে তাকাও।
দেখো কত বড়!
আমি তার কথা গুলোতে কিংকর্তব্যবিমূড় হতাম। এভাবেই তা্র আমার কর্মযজ্ঞের সংসার।

যুগল সাধনে
সহষা অগোছালো সংসারটা মনের
যত্নে সৌন্দর্যে ভরে গেল।
সংসার মাঠখানায় সাদা লাল হলুদ
ফুলের খেত।সে নিজেকে তৈরী করছিল সমাজের নিকটতর বন্ধু হবে তাই।স্বপ্ন ছিল আকাশের চেয়েও বিশাল।আমি তাকে ভালবেসে
আলোকস্তম্ভের মতো স্থিতধী ছিলাম।

২০০৬সালের ১০ই জুন বর্ষায়
তা্র আকস্মিক অকাল প্রয়ানে’ আমি অবাক হয়েছিলাম,যে মানুষ মুরুব্বীদের এতো দোয়া পেল সে বাঁচলনা কেন!!
তাঁর মৃত্যুর পর পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত,আমাকে স্বান্তনা দিতে পেরেছিল।
যার অর্থে মহান আল্লাহ বলেন,
“মুরুব্বীদের দোয়ার মাধ্যমে হায়াত বাড়ে এ কথাটি ঠিক,তবে তা রিজিক বরকতপূর্ণ হওয়ার মতো।রিজিক বাড়লে যেমন এক বেলার ভাত দুবেলা খাওয়া যায় তেমনি হায়াত বাড়লে য়ে মানুষ তিরিশ বছর বা্চবে সে ষাট বছরের কার্যক্রম সমাপ্ত করে,
তিরিশ বছরেই তার মৃত্যু বরন হবে।
কারন মৃত্যু অবধারিত,
আমি আমার প্রিয় বান্দার রুহ কবজ করাকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি”!

তা্র অসমাপ্ত কাজ, বিশাল স্বপ্ন সাহষ,
নিয়ে আমার তরী।স্বপ্ন ফেরী করা তরুনের সাথে চলতে চলতে,শিখেছি স্বপ্ন ফেরী করতে হয় শহর থেকে গ্রামে।গ্রাম থেকে প্রত্যন্তে।
আমি আসিফের প্রয়ানে শিখেছি
তরী ঘুরাতেই বেলা শেষ ।
ভালকাজে পরকাল সমৃদ্ধকরাই লক্ষ্য এখন।

মহান রাব্বুল আলামীন পরম ক্ষমাশীল দয়াবান।
আসিফ কামাল চৌধূরীকে
জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here