কেন আজ মানুষ এতটা অমানবিক এবং দুশ্চরিত্রের অধিকারী

0
72

রোমানা ইয়াছমিন পুতুল::

ক্লাসে ফার্স্ট বয়/গার্ল, বিসিএস ক্যাডার, এমপি, মন্ত্রী থেকে শুরু করে ১ম-২য় শ্রেণির অনেক নামিদামি কর্মকর্তা কর্মচারী আছে যারা ১ম শ্রেণি থেকে শিক্ষা জীবনের একেবারে শেষ স্টেপেও চমৎকার ফলাফল করে পরিবার, সমাজ ও দেশের কৃতি সন্তান হয়ে বেঁচে আছেন আজ তাদেরসহ সবার উদ্দেশ্যে কিছু লিখা লিখতে চাই…

আমি জানি, আমার লিখাটি বেশ অগোছালো হবে। কারণ, আমিও গর্দভের দলে। ভালো লিখতে পারি না, তারপরেও চেষ্টা করি মূল মেসেজটি সবার কাছে পৌঁছাতে।

আমরা সবাই দুনিয়াবি শিক্ষা নিয়ে ব্যস্ত। তাই আমরা নিজেরা নিজেদের ধর্মগ্রন্থ পড়তে ও বুঝতে মোটেও সময় ব্যয় করি না। এই জন্য আমাদের সমাজ ও দেশ আজও নানা কুসংস্কারে ভরপুর।
শনি মঙ্গলবারে নখ ও চুল কাটা যাবে না, খালি কলসি দেখে বের হলে শুভ হয় না, কোথাও যাওয়ার সময় পেছনে থাকাতে নেই এতে অমঙ্গল হয়, ডিম খেয়ে পরীক্ষা দিতে গেলে ডিম পাবে ইত্যাদি প্রচলিত কুসংস্কার এই সমাজে বিরাজমান।
আমরা প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েও এই সব কুসংস্কার নিজেরাই পালন করি ও প্রচার করি।
আমার স্বচক্ষে দেখা, অনেক উচ্চ শিক্ষিত লোক কুরআন শুদ্ধ করে পড়তে পারে না, কুরআনের অর্থ তো বুঝার চেষ্টাই করে না। অথচ তারা অনর্গল হিন্দি ও ইংরেজিসহ নানান ভাষায় পারদর্শী।
কুরআনকে আরবী ভাষায় নাজিল করা হয়েছে কারণ আরবী হলো সবচেয়ে সহজ ও বোধগম্য ভাষা। আল কুরআনের ভাষায়-
নিশ্চয়ই আমি এটিকে কুরআনরূপে আরবি
ভাষায় অবতীর্ণ করেছি, যাতে তোমরা বুঝতে
পারো। [সুরা : হুদ, আয়াত : ২]

আমরা সত্য মিথ্যা নির্ণয় করতে ভুল করি, কারণ আমাদের মধ্যে ধর্মীয় জ্ঞান নেই। একজন মানুষ সুন্দর ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী হলে বুঝতে হবে সে মানুষটির অবশ্যই কিছু না কিছু ধর্মীয় জ্ঞান রয়েছে। তাই তিনি একজন মানবিক ও সৎ মানুষ হতে পেরেছেন।

আল কুরআন হলো- চিকিৎসাবিদের জন্য একটি চিকিৎসাশাস্ত্র, বিজ্ঞানীদের জন্য একটি বিজ্ঞানগ্রন্থ, শাসকের জন্য একটি সংবিধান, ব্যাকরণবিদের জন্য একটি ব্যাকরণগ্রন্থ, ভাষাবিদের জন্য একটি ভাষাগ্রন্থ।

এই মহাগ্রন্থ আল কুরআন অর্থসহকারে পড়লে সহজে দুনিয়ার সবকিছু আয়নার মত পরিষ্কার করে সত্য মিথ্যা নির্ণয় করতে সহায়তা করে। আজ মানুষের মধ্যে নৈতিকতার ন্যুনতম লেভেলটাও নাই, মানবিকতা হারিয়ে যাচ্ছে, ন্যায়পরায়ণতা নেই, সুদখোর, মদখোরের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে।

দুশ্চরিত্র মানুষ না হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায় হলো ধর্মীয়গ্রন্থ অর্থসহকারে বুঝে বুঝে পড়া এবং সে অনুযায়ী আমল করা।
আপনি আপনার সন্তানকে সৎ চরিত্রবান মানুষ হিসেবে গড়তে চাইলে শৈশব থেকে তাকে ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করুন এবং পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দিন।

কুরআনের বাণী নিয়ে চিন্তা ও গবেষণা মানুষের জন্য বাধ্যতামূলক। শুধু আবৃত্তি করার জন্য কুরআন অবতীর্ণ হয়নি, বরং
আল্লাহর বিধান অনুযায়ী মানুষের জীবন গড়ে
তোলার জন্য কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে। তাই
কুরআনকে জীবনের একমাত্র পাথেয় হিসেবে
গ্রহণ করতে হবে। এটি সত্য যে কোরআন
তেলাওয়াতের অনেক ফজিলত বা তাৎপর্য আছে।

কিন্তু শুধু তেলাওয়াতের জন্য কুরআন অবতীর্ণ
হয়নি। কুরআনের শিক্ষার আলোকে জীবন
পরিচালিত করার জন্যই কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। এর জন্য কুরআনের বিষয়বস্তু নিয়ে চিন্তা ও গবেষণা করতে হবে। কেননা সৃষ্টির নানা রহস্যের সমাধান রয়েছে আল্লাহ প্রদত্ত এই আসমানি কিতাবে।

প্রতি সপ্তাহে একটি সুরা অর্থসহ পরিবারের সবাই পড়ুন এবং মুখস্থ করুন। সপ্তাহে না পারলে কম্পলসারি প্রতি মাসে একটি করে সুরা শিখুন। এতে করে দেখবেন ৪-৫ বছর পর আপনার পরিবারের সবাই অর্থসহ কুরআনের হাফেজ।
ধারবাহিকভাবে সহীহ হাদিস সমূহ সবাই মিলে পড়ুন। আশা করি, আপনার পরিবার ও সমাজে কখনো অশান্তি, কুসংস্কার ও কোন ধরনের খারাপ কাজ আর থাকবে না।

এখন তো আমরা সবাই সম্পূর্ণ বেকার। সময় অতিবাহিত হতেই চাচ্ছে না। আসুন, এই সময়টাকে কাজে লাগায়,
কুরআন শুদ্ধ করে ও অর্থসহকারে পড়তে চেষ্টা করি।

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে বুঝার তওফিক দান করুক। আমিন…

লেখক- Rumana Yeasmin Putul (পুতুল)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here