চেয়ারম্যান শাহ আলমের এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য এবারই কি প্রথম প্রশ্ন মোঃ জামাল উদ্দিনের

0
120

সেদিন ছিলে তার বাহুডোরে,
আজ কেন গো জ্বলেপুড়ে?

আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে উখিয়া উপজেলাধীন হলদিয়াপালং ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান শাহ আলমের একটি বক্তব্য ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। সবার মত আমিও যতটুকু শুনেছি, তাতে বলা যায়, বক্তব্যটি নিঃসন্দেহে নির্বাচনী আচরণবিধি পরিপন্থী এবং বাংলাদেশ পুলিশের বিরুদ্ধে মানহানিকর। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, তার এমন বক্তব্য কি এবারই প্রথম? না, আমি যতটুকু জানি, এহেন ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য তিনি গত নির্বাচনকালীন সময় এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিশেষ করে তার বড় ভাই কেবিনেট সচিব থাকাকালীন সময়ে অসংখ্যবার দিয়েছেন। তখন তার এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য নিয়ে কোন ব্যক্তি বা মিডিয়াকে উচ্চবাচ্য করতে দেখা যায়নি! কারন, আমরা শক্তের ভক্ত নরমের যম!

সবচেয়ে লজ্জাজনক বিষয় হল, গত নির্বাচনের সময় তার এমন বক্তব্যে হাত তালি দিয়ে যারা তাকে সমর্থন যুগিয়েছিল, দিনেদুপুরে প্রকাশ্যে তার পক্ষে ভোট ডাকাতির কাজে সহাস্যবদনে সঙ্গী হয়েছিল বা নিজেরাই ভোট ডাকাতিতে নেতৃত্ব দিয়েছিল, তাদেরই কেউকেউ এখন তার এই বক্তব্যের বিরোধিতা করে স্ট্যাটাস দিচ্ছে, যেন তিনি বিশাল কোন পাপ করে ফেলেছেন! কি নির্লজ্জ বিবেকরে বাবা! যেদিন তথাকথিত কিছু রাজনীতিবিদ ও জনৈক সাবেক চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে প্রকাশ্যে শাহ আলমের জন্য ভোট ডাকাতি করা হয়েছিল, সেদিন কোথায় ছিল আপনাদের এই সাহসিকতা? সেদিনতো তাকে সরাসরি দায়ী করে কোন স্ট্যাটাস দিতে দেখিনি! তাহলে আজ কেন তার এমন বক্তব্যের বিরোধিতা? অথচ, সেদিন যদি হলদিয়ার ৩৫ হাজার ভোটারের মধ্যে ৩৫শত মানুষও প্রকাশ্যে ভোট ডাকাতির বিরোধিতা করত, তাহলে হয়তো মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার নতুন ইতিহাস রচিত হত। অথচ, এক বাবুল মেম্বার ও তার ভাই এনাম ছাড়া সেদিন প্রকাশ্যে কেউ প্রতিবাদ করেনি! এই হচ্ছে আমাদের আদর্শ।

শাহ আলম সাহেব তার বক্তব্যে আমাদের পুলিশ বাহিনীকে ‘সরকারী গুন্ডা’ আখ্যায়িত করেছেন বলে কেউকেউ আবার পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা হয়েছে বলে তাহেরী স্টাইলে জিকির করে পুলিশ বাহিনীর প্রতি দরদ দেখাচ্ছে! কেনরে ভাই? যেদিন আমাদের পুলিশ বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে, গলায়গলায় ভাব বসিয়ে তারা ভোট ডাকাতি করেছিল, সেদিনতো আপনাদের কেউ গলা ফাটাননি! সেদিন পুলিশ কি তার পক্ষে গুন্ডা বাহিনীর মত কাজ করেনি? যদি করে থাকে তাহলে পুলিশকে নিয়ে তার এমন আস্থামূলক বক্তব্যে আপনাদের জ্বলে কেন? এমন কথা বলার সুযোগ কি পুলিশ বাহিনী তৈরী করে দেয়নি? তবু বলছি, পুলিশকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। তারা যেকোন সরকারের নির্দেশ পালনে সাংবিধানিকভাবে দায়বদ্ধ। আগে নিজেরা ঠিক হউন। তারপর অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলুন। বিষয়টি যেন এমন দেখতে না লাগে যে, ভাগে বনেনি বলে অন্যের পক্ষে গিয়ে শাহ আলমের বিরুদ্ধে কথা বলে বিষ মিটাচ্ছেন!

আপনাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, যেদিন আমি, আমার শ্বশুর আমিনুল হক আমিন, রফিক মেম্বার, সাংবাদিক জসিম আজাদ এবং শফিউল শাহিনের মত কিছু নিরপরাধ মানুষ শাহ আলম এবং তার ভাইয়ের রোষানলে পড়ে মামলা খেয়েছিলাম, জেলে কেটেছিলাম সেদিনতো কাউকে তার বিরুদ্ধে সাহস নিয়ে কথা বলতে দেখিনি! তাহলে আজ কেন তার বক্তব্যের বিরুদ্ধে এত সোচ্চার হলেন? নাকি নির্বাচনে নতুন করে অন্য কাউকে সুবিধা আদায় করে দিতে তার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে গলা ফাটাচ্ছেন? সময়ে হয়তো সেটাই প্রমাণ হবে। কারন, গত নির্বাচনে শাহ আলমের অনেক সারথি এখন অন্য সম্ভাব্য প্রার্থীর সারথি হয়ে ইতিমধ্যে প্রচারণা শুরু করেছে!

গত নির্বাচনের বাস্তবতায় এটি অন্তত স্বীকার করতে হবে যে, শাহ আলম সাহেব মিথ্যা বলেনি। তার কথা আবারও যে সত্য প্রমাণিত হবেনা তার কি কোন গ্যারান্টি আছে? তিনি হয়তো আগের মত সুযোগ পাবেননা। কিন্তু সেই অনৈতিক সুযোগ যে অন্য কেউ নিতে চেষ্টা করবেনা কোন প্রার্থী কি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে? আমরা আসলে সুযোগের অভাবে সৎ!

এছা বাঙ্গালকো, খেছা জরুর হে!
——————————————–
আসলে মনের ভিতর পুঞ্জিভূত দুঃখ থেকে এসব কথা বলা। অসময়ে হলেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়াটা সুন্দর দিনের প্রত্যাশা বাড়িয়ে দেয়। আমরা চাই, এমন তথাকথিত জনপ্রতিনিধিরা সমাজ থেকে বিতাড়িত হউক। দুর্জন বিদ্বান হলেও যেমন পরিত্যাজ্য, তেমনি ভোট ডাকাতরা উন্নয়ন করলেও তাদের পরিত্যাগ করা উচিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here