জালিয়া পালংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান আহম্মদ শরীফ চৌধুরীর ৭ম মৃত্যু বার্ষিকী ও অজানা কিছু কথা

0
69

 

আহম্মদ শরীফ চৌধুরী, যাকে একনামে উখিয়া তথা কক্সবাজার জেলার সব মানুষই চিনেন। তাঁর জন্ম কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার জালিয়া পালং ইউনিয়নের মনখালী গ্রামে (৯নং ওয়ার্ডে)। একজন নিঃস্বার্থ সমাজসেবক ও জনপ্রতিনিধি ছিলেন। ১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত একটানা জালিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। যা জালিয়াপালং ইউনিয়নের জন্য আজ পর্যন্ত অনন্য রেকর্ড। জালিয়া পালং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে একটানা বা একাধারে ২ বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার নজির আজ পর্যন্ত কারোও নেই। অথচ আজ আমরা সরাসরি জনগনের ভোটে পরপর ৪ বার নির্বাচিত এ-ই জনপ্রিয় সহজ-সরল মানুষটিকে ভুলে যেতে বসেছি। বর্তমান প্রজন্ম আহম্মদ শরীফ চেয়ারম্যানের অবদানের কথা জানেনা বললে চলে।উখিয়া উপজেলার মধ্যে জালিয়া পালং ইউনিয়ন ছিলেন সবচেয়ে অবহেলিত ও উপকূলীয় এলাকা।শিক্ষা ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে ছিলো চরম অবহেলিত। তৎকালীন সময়ে জালিয়াপালং ইউনিয়নে উচ্চ শিক্ষিত ছেলে-মেয়ে গড়ে তোলা ছিলো, আলাউদ্দিনের চেরাগ হাতে পাওয়ার মতো। যোগাযোগ ব্যবস্থা বা মানুষের যাতায়াত ছিলো সাগরের জোয়ার -ভাটার উপর নির্ভর। যার ফলে যথাসময়ে স্বাস্থ্য সেবা না পেয়ে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু বরণ করতো অসুস্থ বৃদ্ধ, শিশু ও গর্ভবতী মহিলা।

যৌবন-জীবন ও সুখ-শান্তি বিসর্জন দিয়ে তিলে তিলে যে মানুষটি জালিয়া পালং ইউনিয়নকে মানুষ বসবাসের উপযোগী করে তোলার অগ্রনী ভুমিকা রেখে গেছেন, তাকে বছরে অন্তত একদিনের জন্যও আমরা মনে রাখতে পারতেছিনা বা ইচ্ছাকৃত ভাবে স্বরণ করতেছি না । সত্যি আমরা অনেক দূর্ভাগা ও অনেক স্বার্থপর মানুষ।

আহমদ শরীফ নামক এ-ই আলোকিত মানুষটি ২০১৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারী আমাদের ইহকাল ছেড়ে পরকালে চলে গেছে। মৃত্যুর ৭ বছর অতিবাহিত হলেও আমার জানামতে তার প্রিয় কর্মস্থল জালিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদে একবারও তার মৃত্যু বার্ষিকী পালন করা হয়নি। সত্যি খুবই দুঃখজনক। মনে রাখবেন, অন্যকে যদি আপনি সম্মান দিতে না জানেন, তাহলে আপনিও কারো কাছ থেকে সম্মান আশা করা বোকামি। আপনারাও একদিন সাবেক হবেন, আপনারাও একদিন ইহকাল ছেড়ে পরকালে চলে যাবেন, তখন আপনাদেরও কেউ স্বরণ করবে না অথবা মনে রাখবে না। যার যেমন কর্ম, তার তেমনই ফল। আমার এ-ই কথা গুলো অনেকের কাছে অপ্রিয় হবে, সেটাও আমি জানি, কিন্তু এইটাই বাস্তবতা।

আহম্মদ শরীফ চৌধুরী নামক মানুষটি এলাকার ও মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন করতে গিয়ে, নিজের ভাগ্য উন্নয়নের কথা ভুলে গিয়ে ছিলো। পরপর ৪ বার জনগনের ভোটে নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান তৎকালীন উচ্চ শিক্ষিত আহম্মদ শরীফ চৌধুরী তার পরবর্তী প্রজন্মকে মাথা গোঁজার ব্যবস্থাটা পর্যন্ত করে দিয়ে যায়নি অথবা ব্যবস্থা করে দিতে পারেননি। আহমদ শরীফ চেয়ারম্যানের জন্মস্থান এলাকায় একটা ভিটেও নেই বা শহরে একটি ছোট বাড়ী পর্যন্তও নেই। যেটাকে তার সন্তানরা তাদের পৈত্রিক ভিটে বা বাড়ী হিসাবে পরিচয় দিবে। আহম্মদ শরীফ চৌধুরীর মতো মানুষেরাই হলো প্রকৃত সমাজ নেতা ও জনপ্রতিনিধি। তার চিন্তা চেতনায় সব সময় ছিলো জালিয়াপালং ইউনিয়নের উন্নয়ন, স্থানীয়রা হচ্ছে তার পরবর্তী প্রজন্ম এবং প্রতিবেশীর বাড়ী-ঘর গুলো হচ্ছে তার বাড়ী বা আবাসস্থল । স্বার্থপর এ-ই দুনিয়ায় কার কথা কে মনে রাখে,কার খবর কে নেয়?

আহম্মদ শরীফ চৌধুরীর মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে জালিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে একটি আলোচনা সভা করলে এমন কি ক্ষতি হয় এবং এমন কি ক্ষতি হতো, সেটা আমার বোধগম্য নই। সুন্দর সূচনা ও ইতিবাচক পরিকল্পনা এবং ভালো কাজে উৎসাহিত করা সকলের জন্য মঙ্গল।

আবদুল হক চেয়ারম্যান ও আহম্মদ শরীফ চেয়ারম্যান মৃত্যু বরন করেছে, তাদেরকে আজ আপনারা স্বরণ করবেন না, তাদের ভালো কাজ গুলোকে আপনারা স্বীকৃতি দিবেন না, তাতে তাদের কোন সমস্যা নেই… কারন আজ এরা পরকালের বাসিন্দা । ক্ষতি আমাদের, অতীত ইতিহাস জানা থেকে আমরা বন্ঞিত থাকবো। হয়তোবা এমনও হবে (আমি ব্যক্তিগত ভাবে কামনা করি না) আপনাদের ভালো কাজ গুলোর স্বীকৃতি ভবিষ্যত প্রজন্ম দিবে না। বাঙ্গালী হুজুগী, আপনি -আমি যেমন কৌশল চর্চা করে যাবো, পরবর্তী প্রজন্মও তেমন কৌশল চর্চা করবে।

আজ আহম্মদ শরীফ চৌধুরীর মৃত্যু বার্ষিকী। এ-ই দিনে আপনাকে শ্রদ্ধা জানাই। আপনি আর আপনার পরিবার মানুষের হৃদয়ের মাঝে অনন্তকাল বেঁচে থাকবে…এ-ই প্রত্যশা রহিল। আপনাকে আমরা যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারিনি…আমাদেরকে ক্ষমা করবেন। আল্লাহ আপনাকে বেহেস্তর সর্বোচ্চ স্থান দান করুক…আমিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here