টেকনাফে জেলেদের মুখে হাসি: জালে ঝাঁকে ঝাঁকে পড়ছে মাছ

0
122

মোঃ ইয়াছিন আরফাত হ্নীলা, টেকনাফঃ

গত দুই দিন ধরে টেকনাফ উপজেলায় জেলেদের জালে ধরা পড়ছে বিভিন্ন প্রকারের মাছ। ফলে সাধারণ খেটে খাওয়া জেলেদের মুখে হাসি ফুঠেছে। এর ফলে দামও কমেছে ইলিশ, চাঁদা মাছ, রুপ চাঁদা, টেক চাঁদা মাছসহ বিভিন্ন প্রকারের মাছ। কাক্ষিত বড়-ছোট মাছ ধরা পড়ায় হাসি ফুটেছে জেলে, আড়তদার ও মৎস্যজীবীদের মুখে। টেকনাফ বাজার ও ফিশারী ঘুরে দেখা যায়, টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন মাছের আড়ত ফিশারি ঘাটে বসেছে মাছের মেলা। আড়তে সাজিয়ে তা বাজারজাত করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। জেলেদের ধরা মাছ আড়তে তুলে হাঁক-ডাক দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত দামে সেসব মাছ কিনে নিচ্ছেন চট্রগ্রাম, ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় থেকে আসা পাইকারি ক্রেতারা। এরপর দূর-দূরান্তে নেওয়ার জন্য ড্রামে সংরক্ষণ করা হচ্ছে মাছগুলো। জেলেদের হাত থেকে আড়তদার, সেখান থেকে পাইকার এবং বেপারিদের হাত ঘুরে এসব মাছ চলে যাচ্ছে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের বড় বড় আড়তে। তবে বিগত বছরের তুলনায় এই বছর বিভিন্ন প্রকারের মাছ বিক্রি হচ্ছে কম দামে। এবার ৬০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশের মণ বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ১০০০ হাজার টাকায়। তবে এর এক মাস আগে একই মাছ দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছিল বলে জানায় মৎস্যজীবীরা। গত কয়েক দিনে টেকনাফ উপজেলার জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে মাছ। ফলে অনেক দিন পর জেলেদের মুখে হাসি ফুঠছে। শাহপরীরদ্বীপের জেলে নুরুল আমিন বলেন, আমরা সাগরে গেলে প্রতিনিয়ত খুশি হচ্ছি। কারন নৌকাভর্তি মাছ নিয়ে বাড়িতে ফিরতে পারি। হাজার হাজার টাকায় মাছগুলো টেকনাফ বাজার গিয়ে বিক্রি করতে পারি।
টেকনাফ বাসস্টেশনের মাছ ব্যবসায়ী মো. মনু মিয়া বলেন, ঝাঁকে ঝাঁকে জেলেদের জালে মাছ ধরা পড়ায় কয়েক সাপ্তাহ আগে থেকে দাম কিছুটা কমেছে। এক মাস আগেও যেখানে ৬০০-৮০০ গ্রাম ওজনের প্রতিমণ ইলিশ ১৭-১৮ হাজার টাকা পাইকারি দামে বিক্রি হতো, সেখানে তা এক ধাক্কায় ১৩-১৫ হাজার টাকায় নেমে আসে। তবে এই আড়ত কেন্দ্রে কয়েকটি নৌকায় তারাও প্রত্যেক ২০-৩০ মণ মাছ নিয়ে ফিরেছেন। আরও অনেক নৌকা সাগর থেকে ফেরার পথে রয়েছে বলে জানা গেছে। টেকনাফ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার জানান, ‘গত কয়েক ধরে টেকনাফ উপজেলায় প্রচুর পরিমান বিভিন্ন প্রকারের মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়েছে। ফলে সাধারণ খেটে খাওয়া জেলে মুখে হাসি দেখে আমরাও খুশি। প্রজনন সময়ে ইলিশ ধরা বন্ধ থাকায় পরিণত বয়স হয়েছে। মাছের আকারও বড় হয়েছে। তাই জেলেদের জালে ধরা পড়ছে প্রচুর প্রকার মাছ। এভাবে ভবিষ্যতেও জাটকা ও প্রজননের সময় মাছ ধরা বন্ধ থাকলে আমাদের জাতীয় উন্নয়নে আরও জোরালো ভূমিকা রাখবে ইলিশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here