দেওবন্দের নীতি বিসর্জন দিয়ে সরকারি অনুদান গ্রহণ করতে পারে না কওমি মাদরাসা’ “বেফাক”

0
121

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ সরকারি অনুদান বিষয়ে আজ ২মে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মজলিসে খাসের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র সহসভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) হযরত মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস সভায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলােচনা পর্যালােচনার পর এই সিদ্ধান্ত হয় যে, সরকারি অনুদান গ্রহণ,

কওমি মাদরাসার দেড়শত বছরের ইতিহাস ঐতিহ্য এবং দারুল উলুম দেওবন্দের নীতি আদর্শকে বিসর্জন দেয়।
তাই এধনের অনুদান গ্রহণ থেকে বিরত থাকার জন্য সকল কওমি মাদরাসার দায়িত্বশীলদের প্রতি আহবান জানানাে হয়। বেফাক নেতৃবৃন্দ বলেন উপমহাদেশব্যাপী বিস্তৃত কওমি মাদরাসাসমূহ ভারতের বিখ্যাত দারুল উলুম দেওবন্দের নীতি-আদর্শ ও শিক্ষাক্রম অনুসরণ করেই পরিচালিত হয়ে আসছে।
দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠাকালে যে ‘উসুলে হাশতেগানা তথা আট মূলনীতি নির্ধারণ করে, তার অন্যতম একটি হলাে যে কোনাে পরিস্থিতিতে সরকারী অনুদান গ্রহণ থেকে বিরত থাকা।
সুতরাং এই মূলনীতিকে বিসর্জন দিয়ে দেশের কোনাে কওমি মাদ্রাসা সরকারী অনুদান গ্রহণ করতে পারে না। অতীতেও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও কঠিন সংকটকালীন সময়ে আমাদের পূর্বসূরি অনুদানের জন্য সরকারের অন্তস্থ হননি।
বিবৃতিতে তারা আরাে বলেন, এই উপমহাদেশে ইসলাম, মুসলমান তথা দ্বীনের হেফাজতের জন্য আকাবির ও আসলামগণ এক কঠিন পরিস্থিতিতে যে ৮ মূলনীতির উপর ভিত্তি করে দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার হুলহু ঐ মুলনীতিসমূহের ভিত্তিতেই কওমি মাদরাসার সনদের স্বীকৃতি দিয়েছে এবং স্বীকৃতি সংক্রান্ত আইনের ২(১) ধারায় কওমি মাদরাসার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে মুসলিম জনসাধারণের আর্থিক সহায়তায় উলামায়ে কেরামের মাধ্যমে প্রতিষ্টিত ও ইলমে ওহীর শিক্ষা কেন্দ্রই হলাে কওমি মাদরাসা।
তাই ঐতিহাসিক সেই মূলনীতি এবং কওমী মাদরাসার সংবিধান উপেক্ষা করে আমরা কোনোভাবেই সরকারি অনুদান গ্রহণ করতে পারি না। নেতৃবৃন্দ আরাে বলেন, কওমি মাদরাসার দায়িত্বশীলদের প্রতি বিশেষ আহবান, ক্ষণিকের সঙ্কট উত্তরণে সরকারি অনুদান গ্রহণ করে অদৃষ্টিকালের জন্য কুদরতি সাহায্যের রাস্তা বন্ধ করবেন না।
আল্লাহ পাকের উপর দৃঢ় ভরসা রাখুন, করােনার মহামারি থেকে বিশ্ববাসী ও মুসলিম উম্মার মুক্তির জন্য দোয়া জারি রাখুন। সর্বাবস্থায় আল্লাহ তাআলা আমাদের হেফাজত করবেন, ইনশাল্লাহ।
বৈঠক থেকে বেফাকের সম্মানিত সভাপতি আল্লামা আহমদ শফি এর সাথে যােগাযােগ করা হলে তিনি এই সিদ্ধান্তকে অনুমোদন করেন।
তবে গতকাল বাংলাদেশের বৃহৎ কওমি বিদ্যাপীঠ হাটহাজারী দারুল উলুম মাঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার স্পষ্ট ঘোষণা করেছে আমরা দারুল উলূম হাটহাজারী স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও স্বকীয়তার উপর বহাল আছি। আমাদের সরকারি অনুদানের প্রয়োজন নেই। তাছাড়া কওমী মাদরাসার সনদের স্বীকৃতির বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ঘোষিত গেজেটের ২ এর ১ নং ধারা এবং ২ এর (ঙ) এর ধারা অনুযায়ী কোন কওমী মাদরাসা সরকারি অনুদান গ্রহণ করতে পারে না।
এটা জামেয়া দারুল উলূম হাটহাজারীর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত। তাই জামেয়া দারুল উলূম হাটহাজারী ও তার (মুলহাকাহ) অনুসারী মাদরাসাসমূহ সরকার কর্তৃক ঘোষিত কোন অনুদান গ্রহণ করবে না। তাই কোন কওমী মাদরাসা কর্তৃপক্ষ যেন এই অনুদানের বিষয়ে সংশয় ও সন্দিহানের মধ্যে না থাকে। (এরপরও যদি কেউ গ্রহণ করে থাকেন এটা একান্তই তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার
আজকের বৈঠকে যারা উপস্থিত ছিলেন হযরত মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, হযরত মাওলানার নূর হােসাইন কাসেমী, হযরত মাওলানা আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী, হযরত মাওলানা আব্দুল হামিদ (পীর সাহেব মধুপুর), হযরত মাওলানা ছফিউল্লাহ, হযরত মাওলানা মাহফুজুল হক, হযরত মাওলানা বাহাউদ্দিন যাকারিয়া, হযরত মাওলানা মুফতি নুরুল আমিন, হযরত মাওলানা মনিরুজ্জামান প্রমুখ।

ওসমান আল হুমাম
প্রচার সম্পাদক
বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়্যা বাংলাদেশ
চট্টগ্রাম দক্ষিণ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here