পরাজিত বিশ্ব এখন পঁচা লাশের হিমাগার।

0
143

ইনানী নিউজ ডেক্স

কয়েকদিন আগেই মহাশূন্যে থেকে নাসার তিনজন ফিরে আসলেন। সুসংবাদ দিলেন আরেকটি পৃথিবীর মতোই গ্রহ পাওয়া গেছে।

মঙ্গল গ্রহ পরিদর্শন হয়েছে। প্রাণের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে পানি আছে। গ্রহ থেকে গ্রহাণুপুঞ্জ মানুষ নাস্তা করে ফিরে আসার চিন্তা করছে।

সাত সমুদ্র তেরো নদীর উপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার ব্যবস্থা অনেক আগেই করেছে বিজ্ঞানীরা। উড়ন্ত জাহাজ, মাটির নিচে রেল ,ভাসমান সেতু কৃত্রিম রোবট আহ্লাদে অনেক কিছুই আবিষ্কার করেছে। এসিড ছিটিয়ে কৃত্রিম বৃষ্টি আনতে পারে। ভেজা ক্রিকেট খেলার মাঠ শুকিয়ে দিতে পারে।

গত দশকে তো ক্লোন মানুষ তৈরি করে নেয়া হয়েছে পড়ে গেল। অনেক সময় নাস্তিকে ভরে যায় বোল চাল এ পৃথিবীতে। বন্দুক দিয়ে বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়া যায়। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে পঙ্গু করা যায়। দেশে দেশে মারণাস্ত্র দিয়ে যুদ্ধ করা যায়। দেশ দখল জাতি নিধন সমুদ্রের রণতরী প্রেরণ যুদ্ধবিমান দিয়ে আকাশ আক্রমণ।

আমেরিকা রাশিয়া চীন জাপান প্রযুক্তির অগ্রভাগে। পর্ণভা পরমাণু অস্ত্র সিটিবিটি এসেই চুক্তি সনদ স্মৃতি স্মারক স্বাক্ষর হতেই আছে।বিশ্বের সেরা রাজা-বাদশার নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র আমেরিকা নিজেদের দাবি করে।

অবশ্য আমেরিকাকে ঘড়ি রেডিওর মত আবিষ্কার করতে হয়েছে খুজে খুজে কলম্বাস কে। আবিষ্কৃত জিনিসেও পৃথিবীর উপর খবরদারি করছে সে আর কম কি?

100 বছর পর পর মহামারী হয়েছে, এটি ইতিহাস। পূর্বের শতাব্দি গুলোতে মহামারীতে এত প্রাণহানি হয়নি। তার অর্থ কি এই অতীতের বিজ্ঞান অনেক শক্তিশালী ছিল। এখন কি জজ ব্যারিস্টার ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার আবিষ্কারক বিজ্ঞানী সবাই কোয়ারেন্টাইন বা আইসোলেশন এ আছেন।

নাহলে কি তাদের বুদ্ধি আর মাথার সেল ব্যর্থ! বিশ্ব আবিষ্কারক আর গবেষকদের কোন কিছুই পাত্তা পাচ্ছে না। কতটা নাজুক হলে রাষ্ট্র নায়ক দের বলতে হয় উপরের দিকে চেয়ে আছি। উপরের দিকে সবাই চেয়ে আছে কিন্তু তারপরও,,।

33 কোটি জনগণের মধ্যে থেকে প্রতিদিন 7000-10000 করে মারা গেলে কত দিন বাঁচতে পারে সবাই।
6 কোটি মানুষের মধ্যে প্রত্যেকদিন 500 থেকে 700 করে মারা গেলে কতদিন লাগবে সবাই মারা যেতে!
এটা গেল বিশ্ব পরিস্থিতি! মনে মনে ভেবেছিলাম এপ্রিল-মে তে একটা ভ্যাকসিন তৈরি হবে। এখন আবার শোনা যাচ্ছে 18 মাস লাগে। আমাদের মতো দেশে একমাস সবকিছু বন্ধ রাখা সৌভাগ্য না দুর্ভাগ্যের বিষয়ে কে জানে। অপেক্ষা আর আশা একটাই কোন দেশ কখন বা কোন এক সময় ঔষধ অথবা ভ্যাকসিন দিয়ে দিবে।

কিন্তু আশার আলো দেখতে দেখতেই আবার অন্ধকার। বড় বড় বিজ্ঞানীদের দেশে তৈরি হবে ঔষধ আর ভ্যাকসিন এটাই তো সবার আশা।

তারা তা তাড়াতাড়ি করতে না পারায় খুবই হতাশ। মাঝে মাঝে রাগ হয়। পৃথিবীতে এত সব বিজ্ঞানী আর গবেষক এত প্রাণহানি ঠেকাতে পারছে না কেন? আর চিন্তা করি?
আমার মত চিন্তা হয়তো অনেকেই করে। মাঝ রাতে সবার অনলাইন টেটাস দেখে তা বুঝা যায়।
যারা জীবিত আছে তারা আতঙ্কিত। যারা মারা যাচ্ছে লাইন ফাইল করে তাদের কবর দিতে হচ্ছে।

কবরের জায়গা নেই। জানাজা দেওয়ার লোক নেই। হিমঘরে জায়গা নেই। লাশ সংরক্ষণের ঔষধ এর অভাবে গন্ধ বের হয়ে গেছে।

সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব এর লাশ পঁচা গন্ধে পৃথিবীর কোন কোন স্থানের আকাশ বাতাস ভারী হয়ে গেছে। প্রতিদিন সহজ যোগ সংখ্যায় 7 থেকে 10 হাজার মৃত মানুষ যোগ হচ্ছে মৃত্যুমিছিল।

করোনা ভাইরাসের করালগ্রাসে পৃথিবী আজ অবাক, স্তব্ধ ,বিজ্ঞান অসহায় ,গবেষণা পঙ্গু , ডাক্তারি বিদ্যা আজ আক্রান্ত, মহাবীর মহা পতমে প্রস্থান প্রায়। দেশে দেশে মুখপাত্র সবাই কোয়ারেন্টাইন আর আইসোলেশন ভবনে।

কেউ একজন কোন রোগের ঔষধ ভ্যাকসিন তৈরি না করলে পৃথিবীতে কেউ থাকবে বলে মনে হচ্ছে না।
পৃথিবী যেন ,পরাজিত, পরাভূত ব্যর্থ,। সমস্ত পৃথিবীর মধ্যে থেকে কেউ একজন উঠে এসে না দাঁড়ানো পর্যন্ত বর্তমান পৃথিবী পঁচা লাশের বাক্সে পরিণত হয়ে যাচ্ছে।

সত্যি কোটি কোটি মানুষ যে আছে। আল্লাহ পাকের মহান কৃপার দিকে, আর প্রার্থনা করছে কেউ একজন অতি তাড়াতাড়ি রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থা তৈরি করুক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here