পেশার তলানীরোধে জুনিয়র সাংবাদিকদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে

0
84

ইনানী নিউজ ডেক্স

জুনিয়র সাংবাদিকদের নিয়ে গতকাল ফেসবুকে একটি পোষ্ট দিয়েছিলাম। পোষ্টটি জুনিয়রদের পক্ষে যাওয়ায় অনেক সিনিয়র বন্ধুরা আমাকে ইনবক্স এবং কমেন্টসে অনেক নীতিবাক্য শুনিয়েছেন। কিন্তু আমি তা শোনতে আদৌ রাজী নয়।

কারন; আপনি সিনিয়র, জুনিয়রদের পথপ্রদর্শক। আপনি ওদের শিক্ষক হবেন, গুরু হবেন। সংবাদের কৌশল শেখাবেন। প্রশিক্ষনের সুযোগ করে দেবেন। মন চাইলে ওদের বকাঝকা দেবেন। আদর-সোহাগ করবেন, শাসন করবেন। আপনাকে গুরু মানবে। তা না করে উল্টো ভুয়া সাংবাদিক, হলুদ সাংবাদিক, অপ-সাংবাদিক বলবেন। এটা হয় কি করে! জুনিয়ররা আপনাকে দেখে সালাম দিলে রিসিভও করবেন না। এটা কিভাবে চলে!

বছর বিশেক আগের কথা। আমার জেলার একজন প্রথিতযশা সাংবাদিক অবজারভারের জেলা প্রতিনিধি আব্দুর রহমান কাজল ভাইয়ের সাথে তার প্রেস ক্লাবে গিয়েছিলাম। তখন আমি কাজল ভাইয়ের সম্পাদনায় প্রকাশিত দৈনিক অজানা বার্তায় নিউজ এডিটরের দায়িত্ব পালন করতাম। কাজল ভাই কোথাও গেলে আমাকে সাথে নিতেন। ঐদিনও কিছু পত্রিকা সাথে নিয়ে ওই সংগঠনে ঢোকার সাথে সাথে ক্লাবের কর্তা ব্যক্তি বললেন কাজল ও কে? বললেন ওকে চেনেন না! ওর নাম জাফর। উত্তরে বলেছিলেন হু ইজ জাফর। প্রশ্নের উত্তরে কাজল ভাই বলেছিলেন, জাফরতো আমার পত্রিকার বার্তা সম্পাদক, খুব ভালো লেখে। তবে ওইদিনের আচরণটা নিয়ে কাজল ভাই আর আমি মাঝে মধ্যে মজা করতাম। তবে আমি ওই কর্কট ভাষাটায় তেমন মাইন্ড করিনি।

তবে আমার এলাকায় ঐ প্রেসক্লাবটি হোয়াইট হাউজ নামে পরিচিত এবং কুক্ষিগত একটি সংগঠন। আবার কেউ পেমক্লাবও বলেন। জীবনে এক কলম লেখেনি এরুপ সাংবাদিকও আছেন ওই ক্লাবে। প্রশ্নদাতা আজ আর বেঁচে নেই। দোয়া করি তিনি পরপারে সুখে থাকেন।

সিনিয়রদের উদ্দেশ্যে সবার আগে যেটি আমি বলবো সেটি হচ্ছে আপনিও একসময়ে জুনিয়র ছিলেন। হঠাৎ করে আপনি সিনিয়র হয়ে ওঠেননি। কলাপাতা-কচুপাতা থেকেই আজ আপনি বড় মিডিয়ায়। কোন সভা, সমাবেশ, কর্মশালা কিংবা প্রশিক্ষনের সুযোগ আসলে সব আপনারা সিনিয়রদের লাগবে। দয়া করে এই অভ্যাস চেইঞ্জ করুন। নবীনদের কাজের পরিবেশ ফিরিয়ে আনুন। অপেক্ষাকৃত কম শিক্ষিত সাংবাদিককে ভাষায় এবং আচার ব্যবহারে উৎসাহিত করুন। কাউকে দূর্বল না ভেবে ওদেরকে সাহস জোগান। নারী সাংবাদিকের সাথে প্রেম করতে হবে এরুপ মনোভাব ভুলে মেয়ের আসনে বসান।

গণমাধ্যম, সাংবাদিকতা আজ তলানীতে। এ অবস্থান থেকে পরিবর্তন সিনিয়র থেকেই আনতে হবে। আপনারা পথ দেখান। জুনিয়ররা এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে। একাধিক সংগঠন করার মানসিকতা পরিবর্তন করুন। পেশা রক্ষায় আপোষ নয় বরং আরো ইস্পাত কঠিন হোন। নবীন-তরুনদের মাঝে সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃস্টি করে দিন। সৃজনশীল চিন্তাধারা থেকে তারা জাতিকে কিছু উপহার দিক।

আমরা তরুন-নবীনদের নিয়ে ভাবছি। কিভাবে তাদেরকে প্রশিক্ষনের আওতায় এনে দক্ষ করে গড়ে তোলা যায় সে পরিকল্পনা বিএমএসএফের রয়েছে। গণমাধ্যমের নির্যাতন বন্ধে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তোলা হয়েছে। তাদের জন্য ঢাকায় জার্নালিস্ট শেল্টার হোম গঠন করা হয়েছে। শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু হবে ইনশাল্লাহ। সংগঠনের পক্ষ থেকে সারাদেশে তিনটি সাংবাদিক প্রশিক্ষন কেন্দ্র গড়ে তোলার মহাপরিকল্পনাও রয়েছে।

যেকোন জেলা-উপজেলা থেকে বিএমএসএফ পরিবারের সাথে যোগদিতে ভিজিট করুন: www.bmsfworld.com এবং সদস্য ফরম সংগ্রহ করে পাঠিয়ে দিন bmsf.bd24 @gmail.com এই ঠিকানায়।

পেশার মর্যাদা, দাবি এবং অধিকার রক্ষায় আপনিও ঐক্যবদ্ধ হোন। সাংবাদিকদের ভালবাসতে শিখুন। সাংবাদিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকুন।

আহমেদ আবু জাফর, প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম, কেন্দ্রীয় কমিটি, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ খ্রী:।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here