প্রবাস থেকে মাহমুদুল হক ফারুকীর আবেগঘন স্ট্যাটাস

0
95

আজ প্রবাসের ৩ বছর

অনেক চড়াই উৎরাই এবং রঙ-বেরঙ পেরিয়ে আজ প্রবাস জীবনের ৩ বছর৷ ২০১৭ সালের ২৮ এপ্রিল ,শুক্রবার রাত ১০:৩০ মিনিটে ছিল আমার উড্ডয়ন৷ গত তিন বছর ধরে তিনটি প্রদেশে যতাক্রমে তেরেঙ্গানো, সেলাঙ্গর ও কুয়ালালামপুরে শিক্ষকতা করার অভিজ্ঞতা অর্জন করতেছি আলহামদুলিল্লাহ৷
বিভিন্ন জাতী-শ্রেণীর মানুষ ও হাজারো পেশার লোকদের দেখার এবং মেশার সুযোগ হয়েছে৷ অসংখ্য বাংলাদেশী প্রবাসীদের সাথে মুলাকাতের সুযোগ পেয়েছি৷

বিশ্বব্যাপী Covid-19 এর প্রাদুর্ভাবে আজ মালয়েশিয়াতে লকডাউন’র ৪৩ দিন। গ্রাম থেকে শহর, বিলিয়নিয়ার থেকে দিনমজুর সবাই সরকারের আইন মান্য করে চলছে। হাসপাতাল আর গ্রোসারি দোকান ছাড়া সব কিছু বন্ধ। দেড়মাস হয়ে গেছে আমাদের স্কুলও🏫 ছুটি।

শুনতে কষ্ট হলেও বলছি,
অসংখ্য প্রবাসী ভাইয়েরা খুব কষ্টে দিনাতিপাত করছে। কারন তারা ইনকামের খুব অল্প টাকা হাতে রাখে। আর এখানে সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। ইচ্ছে থাকলেও কেউ কাউকে সাহায্য করার মত সামর্থ্য নেই।
আলহামদুলিল্লাহ, সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কিছু ভাইয়েরা সাহায্য করেছেন। যদিও বাংলাদেশ দূতাবাস প্রবাসীদের জন্য বরাদ্দকৃত সব টাকা নিজেরা পকেটে পুরেছে!
আমিও নিজের তহবিল এবং স্থানীয় কিছু পরিচিত মালয় ভাইদের সহযোগিতায় বেশ কয়েকবার তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
এতকিছুর পরও খুশির খবর হচ্ছে, মালয়েশিয়া সরকার বৈধ-অবৈধ সমস্ত প্রবাসীর করোনার চিকিৎসা ফ্রিতে করছেন। এবং গোটা মালয়েশিয়া দ্রুত সুস্থতার দিকে যাচ্ছে।

বন্ধুরা, নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি,
প্রবাসীরা এলিয়েন বা ভিন্নগ্রহের প্রাণী না হলেও তারা এক অদ্ভোত নিয়মে চলে! আমার মতে প্রবাসীর ডেফিনেশন হলো: “সবাই যার যার, তার তার মত করে চলার নামই প্রবাস”৷ তবে সবার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য কিন্তু এক ও অভিন্ন

পৃথিবীতে খাদ্যের স্বর্গরাজ্য বলা হয় মালয়েশিয়াকে৷ আমার সুযোগ হয়েছে রকমারি সুস্বাদু খাবারের স্বাদ নিতে, অবাধ যাতায়ত করছি প্রশস্ত ও সজ্জিত রাস্তাগুলোতে, চোখ ধাঁধানো সুউচ্চ দালান-ইমারত এবং আধুনিক স্থাপনায় হারিয়ে গেছি বহুবার, প্রাকৃতিক সুন্দর্য্যে মন্ত্রমুগ্ধ হচ্ছি বারবার৷
তবু……আমি যেন অতৃপ্ত। হরদম কিসের যেন শুন্যতা অনুভব করি!!!!!! কারণ, শরীর থেকে বাংলাদেশের মাটির খুশবু এখনো যায়নি, দেহখানা প্রবাসে থাকলেও হৃদয়জগত বাংলাদেশে৷ মাকে প্রচুর মিস করছি৷ দিলরুবার লং ডিসটেন্স খুব জ্বালাতন করে! আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, প্রতিবেশী এবং বাংলাদেশের প্রত্যকটি স্মৃতিকে বড্ড মিস করছি! লকডাউনের ঘরবন্দি জীবনে আরো বেশি মনে পড়ে অতীতের প্রতিটি মূহুর্তগুলো।
মাঝেমাঝে মনে হয় কোন নির্জন জায়গায় গিয়ে গলা ফাটিয়ে কান্না করি!! কিন্তু তাও সম্ভব নয়, কারণ আমি প্রবাসী! প্রবাসীদের মন-মেজাজ পরিবারের বড় ছেলেদের চেয়েও কঠিন ও বিচিত্র!

তবে হ্যাঁ, এই প্রবাসজীবন সবার মত আমাকেও ঐশ্বর্য, ইজ্জত-আব্রু অনেক কিছু দিয়েছে আলহামদুলিল্লাহ৷
কবিতার সুরে যদি বলি;
প্রবাস মানে শুধু টাকা নয়, জীবন গড়ার শিক্ষা,
প্রবাস মানে উল্লাস নয়, অনুপম এক দীক্ষা৷

সবার কাছে দুআর বিনীত দরখাস্ত রইল৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here