ভাঙ্গুড়ায় প্রধান শিক্ষক বিরুদ্ধে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ

0
107

রাজিবুল করিম রোমিও, পাবনা প্রতিনিধি

ভাঙ্গুড়ায় কোনো ধরনের রশিদ ছাড়াই এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে উপজেলার অষ্টমনিষা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনসার আলীর বিরুদ্ধে ।শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কেন এই টাকা নেয়া হচ্ছে তা জানে না কোনো শিক্ষার্থী। এই নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানিয়েছেন, এসএসসি পরীক্ষার কয়েকটি বিষয়ে অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এই পরীক্ষার নম্বরপত্র শিক্ষাবোর্ডে পাঠানোর খরচ হিসেবে এই টাকা নেয়া হয়েছে।
বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের এসএসসি পরীক্ষায় উপজেলার অষ্টমনিষা উচ্চ বিদ্যালয়ের তিনটি বিভাগ থেকে ১১২ জন নিয়মিত শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।অনিয়মিত আরো ২০ জন শিক্ষার্থী এই বছর পরীক্ষা দিচ্ছে এই বিদ্যালয় থেকে। আগামী ২৭ শে ফেব্রুয়ারি এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।এসএসসি পরীক্ষা শুরুর আগে বিদ্যালয়ে একাধিক বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এসব বিষয়ের পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করেন। আগামী ৮ মার্চের মধ্যে এসব বিষয়ের পরীক্ষার নম্বরসহ অন্যান্য ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বর শিক্ষা বোর্ডে পাঠানোর নির্দেশনা রয়েছে। ওই নম্বরপত্র শিক্ষা বোর্ডে পাঠানোর খরচ হিসেবে ওই প্রধান শিক্ষক প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১০০ টাকা করে আদায় করেন। তবে টাকা নেওয়ার সময় শিক্ষার্থীদেরকে কোনো রশিদ দেয়া হয়নি। অথচ পরীক্ষার ফরম পূরণের পরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো প্রকার অর্থ না নেওয়ার বিধি নিষেধ রয়েছে শিক্ষাবোর্ডের।
শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রধান শিক্ষক এসএসসি পরীক্ষার্থীদেরকে বিদ্যালয়ে হাজির হয়ে ১০০ টাকা করে জমা দিতে বলেন। আমরা গত সোমবার বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে টাকা জমা দেই। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মানি রশিদ না দেয়ায় আমরা টাকা নেয়ার কারণ জানি না। কেন টাকা নেয়া হচ্ছে জানতে চাইলে শিক্ষকরা ভিন্ন ভিন্ন কথা বলেন। কোনো শিক্ষক ব্যবহারিক পরীক্ষার কথা বলেন। আবার কেউ কেউ অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার খরচের কথা বলেছেন। এই বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আনসার আলীর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি কিছু বলতে পারবেন না বলে জানান।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের পরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আর কোনো টাকা নেয়ার সুযোগ নেই। প্রধান শিক্ষক নিলে সেটা খুবই অন্যায় করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here