মসজিদ নিয়ে সরকারী সিদ্ধান্ত ও শীর্ষ ১৫ আলেমের বিবৃতি নিয়ে কিছু কথা……

0
155

—মুফতী সাখাওয়াত হুসাইন রাজী,ঢাকা

শীর্ষ ওলামাদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। মসজিদ বন্ধ করার মধ্যে সরকারেরও কোন ফায়দা নেই। স্বভাবতই প্রশ্ন থেকে যায়, তাহলে বর্তমান পরিস্থিতি সৃষ্টি হলো কেন? ইসলামিক ফাউন্ডেশনে আয়োজিত প্রথম মিটিং থেকেই মসজিদ বন্ধের সুপারিশ প্রত্যাশা করেছিল সরকার। কেননা সরকার বস্তুবাদী চিন্তা ও মিডিয়া আগ্রাসনের শিকার। মূলত আল্লামা শাহ আহমদ শফী মত না দেয়ার কারণেই সেই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। পরবর্তী মিটিংয়েও অনড় ছিলেন আল্লামা শাহ আহমদ শফী। মোবাইল ফোনে ও প্রতিনিধি প্রেরণ করে তিনি তার বক্তব্য স্পষ্ট করেন। হঠাৎ করে পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয় ফোনে ফোনে আল্লামা আহমদ শফী ও ওলামাদের সঙ্গে কথা বলে এই সিদ্ধান্ত নেয়। ওলামায়ে কেরাম সরকারের সঙ্গ দিয়েছে কেননা যদি সরকার সিরিয়াস হয়ে গোটা দেশ লকডাউন করে দেয় তাহলে সব প্রতিষ্ঠান এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু যখন দেখা গেছে শুধুমাত্র মসজিদে লকডাউন করা হয়েছে, সাধারণ মানুষের অন্যত্র জমায়েত বরাবরের মতোই অব্যাহত আছে। তখনই প্রশ্ন আসে তাহলে মসজিদ বন্ধ থাকবে কেন? যে ১৫ জন উলামায়ে কেরাম গতকাল বিবৃতি দিয়েছেন মূলত এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই তারা বিবৃতি দিয়েছেন এবং আমি আশা করি এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে একমত অন্যসব আলেমেরাও। সুতরাং শীর্ষ আলেমদের মধ্যে কোন বিরোধ নেই।

তবে মিডিয়া ও অমূলক চিন্তা দ্বারা প্রভাবিত কতিপয় মানুষ শুরু থেকেই চেয়েছে মসজিদ গুলো যেন বন্ধ করে দেয়া হয়। আরে বাংলাদেশে কি শুধুমাত্র মসজিদগুলোই জমায়েত হওয়ার স্থান? যে দেশের পথে-ঘাটে অলিগলিতে সব সময় মানুষের জটলা থাকে সে দেশে শুধুমাত্র মসজিদ গুলো নিয়ে মাথাব্যথা কেন? আর সরকার যখন কোন এলাকায় লকডাউন ঘোষণা করবে সে এলাকাতে তো সবকিছু এমনিই বন্ধ হয়ে যাবে, আলাদা করে মসজিদ বন্ধের ঘোষণা দিতে হবে কেন?

কয়েকটা আইডি থেকে মসজিদ বন্ধ নিয়ে ডর্জন খানেক স্ট্যাটাস ও লাইভ প্রচার হয়েছে। আমি মানি এগুলো সব সতর্কতামূলক পদক্ষেপের অংশ। কিন্তু একটা কুয়াতে ইঁদুর পড়েছে। ইঁদুর বের করে নিয়ম অনুযায়ী পানি তোলে কয়েক বালতি পানি সতর্কতামূলক বেশি তুলতে হবে। না ইঁদুর রেখে সতর্কতামূলক শুধু পানি তুলতে হবে? যে কারণে আজাব গজব আসছে তা নিয়ে কথা বলতে দেখা যায় না। শুধু সতর্কতামূলক মসজিদ বন্ধের কথা বলে। এর মানে ওরা বস্তুবাদের কতটা আগ্রাসনের শিকার বোঝা দায়।

ওলামায়ে কেরাম শুধু ফরজ টুকু দ্রুতগতিতে মসজিদে পড়ার এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে মসজিদ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা সহ যে কয়টি নির্দেশনা দিয়েছিলেন তা বাস্তবায়িত হলে মসজিদকে সংক্রমণের কারণ হিসেবে সাব্যস্ত করার কোন সুযোগ থাকে না।

প্রশ্ন আসতে পারে, ওলামায়ে কেরাম মসজিদে জামায়াত সীমিত করার যে প্রস্তাব করেছিলেন তা তো জনগণ মানছে না? আমি বলব, জনগণ মানছে কোনটা? কোনভাবে কি জনগণকে কোথাও ঠেকানো যাচ্ছে? সে ক্ষেত্রে সংখ্যা নির্দিষ্ট না করে জামাত সীমিত করার বিষয়টি তদারকি করা যেত। যারা এখন সংখ্যার বিষয়টি তদারকি করবে তাদেরকে জামাত সীমিত করার বিষয়টি তদারকির জন্য চাপ প্রয়োগ করলে হয়ত ফলদায়ক হতো।

যাই হোক, এই অবস্থায় আমাদেরকে অহেতুক বিতর্ক ও পারস্পরিক দোষারোপ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। আর বেশি বেশি দোয়া করতে হবে আল্লাহ তা’আলা যেন আমাদের সকলকে হেফাজত করেন। আমীন!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here