“মুজিব বর্ষ” উপলক্ষ্যে খুনিয়াপালং এর চেয়ারম্যান আবদুল মাবুদের দীর্ঘ গাড়ি বহর নিয়ে শোভাযাত্রা

0
77

এম.আরিফুর রহমান

মুজিববর্ষ পালনে আবদুল মাবুদ চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ গাড়ি বহরের শোভাযাত্রা

জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী ‘‘মুজিব বর্ষ’’ উপলক্ষ্যে খুনিয়াপালং-এ হাজার হাজার জনতার অংশগ্রহনে ৭ কিলোমিটার লম্বা গাড়ি বহরের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ২০মার্চ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৮টা থেকে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড পাড়া মহল্লা থেকে নিজ নিজ উদ্যোগে সাধারণ জনগন গাড়ি’র বহরে প্লেকার্ড, ব্যানার, পেস্টুন, বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী’র ছবিসহ উৎসাহ উদ্দীপনায় গান বাজনা বাদ্যযন্ত্রসহ হিমছড়ি সাগরপাড়ে প্রস্তাবিত প্রজাপতি’র গার্ডেন মাঠে সমবেত হতে থাকে। সকাল ১১টা নাগাদ সহ¯্রাধিক মোটর সাইকেল ও ৫শতাধিক ডাম্পার, জীপ, মাইক্রোবাসের বহর নিয়ে খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, আওয়ামীলীগ নেতা আবদুল মাবুদ’র নেতৃত্বে হিমছড়ি থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়। শুরুর আগে কক্সবাজার-রামু আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল আগত লোকজনের সাথে সমবেত হয়ে কুশল বিনিময় করেন। গত এক সপ্তাহ ধরে ইউনিয়নের বিভিন্ন পথে প্রান্তরে উঠান বৈঠক, পথসভা, মত-বিনিময় সভার মাধ্যমে খুনিয়াপালং ইউনিয়নের বিভিন্ন পাড়া মহল্লা থেকে সাধারণ লোকজনদেরকে নিজেদের অর্থায়নে গাড়ি ভাড়া করে মুজিব বর্ষের র‌্যালি বের করার আহবান জানান খুনিয়াপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল মাবুদ। মূলত চেয়ারম্যানের আহবানে ব্যাপকভাবে সাড়া দিয়ে, উৎসবের আমেজে প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে সাধারণ লোকজন নিজেদের টাকায় গাড়ি ভাড়া, বাধ্যযন্ত্র, শিল্পী ভাড়া, পানি, টি-শার্ট সরবরাহ, পাউরুটি, কলা, বিস্কুট নিয়ে সহ¯্রাধিক মোটর সাইকেল ও ৫শতাধিক ৪ চাকার যানবাহন ভাড়া করে। সকাল ১১টায় শোভাযাত্রা হিমছড়ি থেকে শুরু হয়ে মেরিন ড্রাইভ সড়ক থেকে রুপসী গোয়ালিয়া হয়ে ধোয়াপালং রাস্তার মাথা-তুলাবাগান দারিয়ারদীঘি হয়ে ধেছুয়াপালং এসে বিকাল ৩টা নাগাদ সমাবেশে সম্মলিত হয়। টানা ৪ঘন্টা ধরে শোভাযাত্রাটি ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড পাড়া মহল্লা প্রদক্ষিন করে। এসময় হাজার হাজার মহিলা ঘর থেকে বের হয়ে শোভাযাত্রা অংশগ্রহণকারীদের অভিবাধন জানায়।

৭০ বছরের বৃদ্ধ কালুর দোকান এলাকার আলতাজ ফকির জানান, তাহার বুদ্ধি বয়সে এত লম্বা সু-শৃঙ্খল শোডাউন তিনি দেখেন নি। উৎসাহ উদ্দীপনা করে তিনি নিজেই ডাম্পার গাড়িতে উঠে তরুণ যুবকদের সাথে এ র‌্যালিতে অংশ নিয়েছেন। কালারপাড়া এলাকার ৮৫ বছরের বৃদ্ধ কবির আহমদ জানান, আবদুল মাবুদ চেয়ারম্যানের ডাকে সাড়া দিয়ে বৃদ্ধ বয়সে তিনি নিজেও র‌্যালিতে অংশ নিতে পেরে গর্বিত। তিনি গাড়ি ভাড়ার জন্য অন্যান্যদের নিজেও ৫০০টাকা শরীক হয়েছেন। তিনি জানান, এত লোকের বর্নাঢ্য র‌্যালি এর আগে তিনি দেখেন নি। শোডাউন পরবর্তী সমাবেশে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি, আবদুল মাবুদ চেয়ারম্যান, রামু উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান সালা উদ্দিন, রামু যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নিতীশ বড়–য়া, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক তপন মল্লিক, ছাত্রলীগ নেতা তসলিম উদ্দিন সোহেল, সফর ফকির প্রমুখ। দারিয়ারদীঘি আশ্রয়ণের সভাপতি গোল মোহাম্মদ জানান, স্থানীয় বাজারে কোন মাইক ভাড়া না পেয়ে তার গ্রামসহ পাশর্^বর্তী পূর্ব পাড়া, মদিনাবাগ, মৌলভীপাড়া, দক্ষিনপাড়া, রাবারড্যাম এলাকার সাধারণ লোকজন ৮০ কিলোমিটার দূরে সুদুর চকরিয়া থেকে তারা ১৫টি মাইক ভাড়া করে নিয়ে আসেন। এভাবে দূর দূরান্ত থেকে গাড়ি, মাইক ভাড়াসহ সাধারণ লোকজন ঈদের আনন্দের মত করেই বর্ণাঢ্য ও ৭ কিলোমিটার লম্বা গাড়ি মিছিল বের করেন। র‌্যালিতে অন্তত ৫০ জন অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে অনেককে প্রাথমিক চিকিৎসা’র পর ছেড়ে দেওয়া হলেও জেলা সদর হাসপাতাল ও উখিয়া হাসপাতালে ৮ জনকে ভর্তি করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here