রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপের রাজত্ব কায়েম,রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান কোথায়?

0
233

মারজান আহম্মেদ চৌধুরী

২০১৭ সালে ২৫ই আগষ্টের পর মিয়ানমার সামরিক সরকারের নিপিড়ন নির্যাতনে ভয়ে পালিয়ে আসা ১০ লক্ষাধীন রোহিঙ্গা আশ্রয় নেয় উখিয়া-টেকনাফে।

এই রোহিঙ্গারা দীর্ঘ অবস্থানের ফলে দিন দিন অর্থনিতিক ভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তাদের মধ্যে গড়ে তুলেছে একটি অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনী। তারা প্রতিনিয়ত চালিয়ে যাচ্ছে খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজি, জোরপূর্বক ধর্ষন,ইয়াবা ব্যাবসা, সহ নানান অপরাধ। আশ্রয়িত ক্যাম্প ও উখিয়া-টেকনাফের পাহাড়ে গহীন অরন্যে ছোট বড় গড়ে তুলেছে অসংখ্য সন্ত্রাসীদের আস্তানা। এই সন্ত্রাসীরা সাধারণ রোহিঙ্গাদের জিম্মি করে চালিয়ে যাচ্ছে ক্যাম্প রাজত্ব। এতে স্থানীয় প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে? স্থানীয়রা বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আতংকিত জীবন যাপন করছেন। বর্তমানে ৩২ টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৫ হাজার রোহিঙ্গা চাকরি জীবি এতে অনেক স্থানীয় যুব সমাজ বেকারত্বে দিন যাপন করছে। স্থানীয় বেকার যুবক ছেলে-মেয়েদের জন্য প্রতিনিয়ত আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন পালংখালী অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির নামে একটি অরাজনৈতিক সংগঠন।

উখিয়া-টেকনাফে রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের জন্য একটি গভীরতর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে প্রবেশের পর সমস্যাটি যে এতটা জটিল হয়ে উঠবে, তা অনেকের ভাবনায়ও ছিল না। এই দেশে বৈধ-অবৈধ ব্যাবসা সহ সম্পূর্ণ স্বাধীন ভাবে চলাফেরা করতে পরার রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে যাবে না? কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, আমরা এই দুই দেশের সমঝোতার কোনো বাস্তবিক দেখা যাচ্ছেনা।

এর পরিপ্রেক্ষিতে এই সংকটের একটি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে পাঁচ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেন। সেখানে তিনি ধর্ম ও গোত্রনির্বিশেষে মিয়ানমারে বসবাসরত সব বেসামরিক লোকজনের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে রোহিঙ্গাদের জন্য একটি ‘নিরাপদ এলাকা’ তৈরির কথা বলেন। এ ছাড়া তিনি মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত সব রোহিঙ্গাকে নিজ দেশে নিরাপদে ফেরার নিশ্চয়তা প্রদানের কথা বলেন। এরই ধারাবাহিকতায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের লক্ষ্যে চার দফা প্রস্তাব পেশ করেন, যেখানে তিনি টেকসই প্রত্যাবাসনের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। এ ছাড়া তিনি মিয়ানমারের প্রতি রোহিঙ্গাদের আস্থা তৈরি করা এবং রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের রাখাইনে সফরের আয়োজন করার কথা বলেন। পাশাপাশি তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা এবং এই সংকটের কারণ বিবেচনায় রেখে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে বলেন। ইতিমধ্যে ২০১৮ সালের নভেম্বরে এবং ২০১৯ সালের আগস্টে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার ভিত্তিতে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া শুরু করার উদ্যোগ দুবারই ব্যর্থ হয়। এর ফলে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে জনমনে ব্যাপক সংশয় তৈরি হয়। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গাদের শিবিরের মধ্যে বিশাল সমাবেশ নানা রকম প্রভাব তৈরি করেছে।

এদিকে, রোহিঙ্গাদের দীর্ঘ অবস্থানের ফলে নানা রকম আর্থসামাজিক সমস্যা তৈরি হচ্ছে। মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি দীর্ঘায়িত হওয়ায় শিবিরে রোহিঙ্গাদের দৈনন্দিন জীবনে সমস্যা ও বঞ্চনা বেড়ে চলেছে। রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে বৈষয়িক টানাপোড়েন ও মানসিক দূরত্ব বাড়ছে। বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার উপস্থিতির কারণে স্থানীয় পর্যায়ে জনসংখ্যাগত যে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের মধ্যে পারস্পরিক অসন্তোষ, সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তা ছাড়া, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপের নানান রকম অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা দৃশ্যমান হচ্ছে দিন দিন। জন্মনিবন্ধন সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র, বাংলাদেশের পাসপোর্ট তৈরি করা, এমনকি ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি হয়ে গেছে অনেক রোহিঙ্গা যা সরকারের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবী রাখে? এই বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীর কারণে বর্তমানে স্থানীয়রা কাজ পাচ্ছে না। অধিকন্তু রোহিঙ্গাদের অবস্থান আরও দীর্ঘায়িত হলে তা বাংলাদেশের জন্য একটি মারাত্মক নিরাপত্তাঝুঁকি হবে বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারণা।

এসব কারণে রোহিঙ্গা সমস্যাটি এখন বাংলাদেশের জন্য একটি বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এত বিশাল একটি জনগোষ্ঠীর ভরণপোষণের ভার বাংলাদেশের মতো একটি জনবহুল ও উন্নয়নশীল দেশ অনির্দিষ্টকালের জন্য বহন করবে, তা প্রত্যাশা করা যায় না। এ বিষয়টি সামনে রেখেই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন বিষয়ে কতগুলো ব্যবস্থার কথা সম্মেলনে বারবার বলা হয়। এগুলো হলো: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক প্রদত্ত পাঁচ দফার আলোকে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান খোঁজা; মিয়ানমারের ওপর চাপ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশের বৈদেশিক মিশনগুলোর প্রচার কার্যক্রম বেগবান করা; স্থায়ী, সফল এবং স্বেচ্ছা প্রত্যাবর্তনের উদ্দেশ্যে রোহিঙ্গাদের যৌক্তিক দাবি বিবেচনায় নেওয়া; এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক ও উপ–আঞ্চলিক সংস্থা, যেমন সার্ক, আসিয়ান, বিমসটেক এবং ওআইসিকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে প্রভাবিত করা। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের শান্তি ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্যে জাতিসংঘের নিশ্চয়তা প্রদানকারীর ভূমিকা পালন নিশ্চিত করা। প্রত্যাবর্তন না হওয়া পর্যন্ত কিছু অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার কথাও আলোচনায় আসে, যেমন ক্যাম্পের ভেতরে ও বাইরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মানব পাচার রোধ করা, ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে তাদের উৎসাহিত করা, দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে রোহিঙ্গাদের প্রস্তুত করা, সব রোহিঙ্গার জন্য আইডি কার্ডের বিধান করা এবং পরিবেশ পুনরুদ্ধার করা। রোহিঙ্গাদের এসব সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর চাহিদা পূরণ করার কথাও এই সম্মেলনে আলোচিত হলেও যা বাস্তবতার কোন মিলনেই।

রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধান বাংলাদেশের জন্য একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। কেননা, একদিকে মিয়ানমার মানবাধিকার–সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here