সুবর্ণ জয়ন্তীতে রক্তাক্ত দেশ, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব চরম ভাবে ভূলন্ঠিত

0
21

এম.মোস্তফা কামাল আজিজি

একজন সাম্প্রদায়িক ব্যক্তির জন্য সারা দেশে সোস্যাল মিডিয়া “ফেসবুক” বন্ধ রাখাটা বোধহয় একেবারেই উচিত হয়নি। যেই মানুষটি আগমনের জন্য দেশে “সোশ্যাল নেটওয়ার্ক” বিচ্ছিন্ন রাখতে হয় এমন বিতর্কিত ব্যাক্তিকে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর মত একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে মেহমান না করলে কি এমন ক্ষতি হতো? দেশের মানুষকে পাখির মতো গুলি করে মেরে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে,সাম্প্রদায়িক মানুষকে উসকে দিয়ে,দেশের পরিস্থিতি কে উত্তপ্ত করে,গণমানুষের অধিকার হরণ করে,শুধুমাত্র একজন চা ওয়ালাকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর মত একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করাটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল দেশের জন্য আমি বোধগম্য নয়।

তবে এতটুকু বলতে পারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ যারা এ দেশ স্বাধীন করেছিল, তারা যে কারণে দেশকে স্বাধীন করেছিল আজ স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে এসে সেই কারণ গুলো চরম ভাবে ভূলন্ঠিত হয়েছে।

কেননা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ স্বাধীনতার স্বপক্ষে অগ্রণী ভূমিকা পালন করী সবাই এদেশের মানুষকে পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জুলুম-নির্যাতন থেকে মুক্তি দেয়ার জন্য সংগ্রাম করে এ দেশকে স্বাধীন করেছিল। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে এসে আজ আবার খুব তীক্ষ্ণ ও সূক্ষ্ম ভাবে অন্য একটি দেশের পরাধীনতার জিঞ্জির এদেশের মানুষের গলে পড়িয়ে দিতে ব্যস্ত একটি মহল। যা এদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের মারাত্মক হন্তারক।

তবে এটাও আমি অস্বীকার করতেছি না, স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশের বিজয় ও পাকিস্তানের পরাজয়ে বাংলাদেশকে যথেষ্ট সহযোগীতা করে ছিল ইন্ডিয়া তথা ভারত। তার জবাবে আমি বলব ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তথ সময়ে দুই দুইটি যোদ্ধে শোচনীয় ভাবে পরাজয় বরণ করেছিল পাকিস্তানের কাছে, বারবার পাকিস্তানের কাছে কেন এই পরাজয় তা অনুসন্ধান করার জন্য গঠন করে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা “র”। এই “র”এর তথ্য অনুযায়ী তার একমাত্র কারণ ছিল উভয় পাকিস্তান এক সুতায় গেতে থাকায় শক্তির সঞ্চার। আর তাই যে কোন বিনিময়ে এই দুই দেশকে আলাদা করাটাই ছিল ভারতের মূল টার্গেট। সেহেতু পাকিস্তানকে দ্বিখণ্ডিত করতে পারলে ভারতের জন্য যথেষ্ট প্লাস অর্থাৎ তাদের একতা শক্তি ভেঙ্গে গেলে তারা আর কখনো মাথা উঁচিয়ে কথা বলতে পারবেনা।

আর তাই ভারত সরকার অতি উৎসাহী হয়ে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করে স্বীয় অন্তরে লুকায়িত স্বার্থও কিন্তু হাসিল করেছিল সেদিন। যা আমাদের দেশে প্রচলিত প্রবাদের ভাষায় যাকে বলে “শতীনের ছেলেকে দিয়ে সাপ ধরানো”র নামান্তর।

পরিশেষে বলব,গনতন্ত্রে বিশ্বাসী সকল দেশে একটি কথাই বলে থাকে “জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস” তাই যদি হয়ে, তবে আমাদের দেশে কেন নয়?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here